পরিবহন ধর্মঘটে সৈয়দপুরে লিচুর বাজারে ধস

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২১:৪৭
ধর্মঘটে সৈয়দপুরের লিচুর বাজারে ধস নেমেছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় সৈয়দপুরের বাইরে লিচু যাচ্ছে না। এতে দাম যেমন কম অন্যদিকে বাইরের কোন ব্যবসায়ীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। এর ফলে বাগান মালিকসহ ব্যবসায়ীদের গুণতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা লোকসান। গত রবিবার থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট। প্রথমদিন থেকেই দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। এছাড়া গত রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল সৈয়দপুর থেকে ঢাকামুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের। ঐদিন সৈয়দপুর থেকে বাইরের জেলাগুলোতে বাস বা ট্রাক চলাচল না করায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে লাখ লাখ টাকা। সোমবারও বাস ও ট্রাক চলাচল সারাদিন বন্ধ থাকায় ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলে জানান তিনি। সৈয়দপুর বণিক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী, বঙ্গবন্ধু কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স.ম. জিয়াউল হক বিপ্লবসহ বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম ও লিচু ব্যবসা ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখতে যান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সোমবার সকালে ১নং রেল গুমটি সংলগ্ন লিচুর পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও গ্রাম থেকে পিকআপ, ভ্যান, রিকশা, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবসায়ী ও মালিকেরা লিচু নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা জানতেন না অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলছে। একারণে ক্রেতা নেই বললেই চলে। গত শনিবার যে লিচু তারা শ’ বিক্রি করেছেন ৩ শ’ টাকায় সেই লিচু তাদের বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হয়েছে ১ থেকে দেড়শ টাকায়। মফিজ নামের এক বাগান মালিক বলেন, ‘ধর্মঘট চলছে মুই জানো না। জানিলে কি আর মুই লেচু বেচের আইসো? যতুলা লেচু আনছু এ্যাতে দশ থাকি বারো হাজার টাকা লাভ হবার কথা আছিল। কিন্তক এ্যালা তাবতই লস হইবে।’ আড়তদার ফারুক জানান, গত শনিবার মাঝারি ধরনের ১০০ লিচু বিক্রি করেছেন ২শ টাকায়। আর ভাল লিচু বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায়। শুধু ধর্মঘটের কারণে পানির দামে লিচু বিক্রি করতে হচ্ছে।