আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২২:১৪
নানা প্রতিকূলতা আর অভাব অনটনকে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন অনেকেই। কিন্তু মেধাবী এসব ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত্ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অধিকাংশ পরিবার। চিকিত্সক প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্নে দরিদ্রতা বড় বাধা। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। চাটমোহরের বাপ্পীর গোল্ডেন জিপিএ অর্জন চাটমোহর উপ-জেলার কুমারগাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে মোঃ বাপ্পী রাজ এসএসসি (ভোক) পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। পিতার সম্বল বলতে কিছু নেই। আইসক্রিম বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। পড়ালেখার ফাঁকে-ফাঁকে বাপ্পীকেও দিনমজুরি করতে হয়। ভবিষ্যতে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কিন্তু দরিদ্রতাই তার স্বপ্ন পূরণের একমাত্র বাধা। বাপ্পীর বাবা ইব্রাহীম ও মা লাকি খাতুন ছেলের সাফল্যে খুশি। ধামইরহাটের লিমা ডাক্তার হতে চায় নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শল্পী রুপনারায়ণপুর গ্রামের ভ্যানচালক গোলাম মোস্তফার মেয়ে লিমা আক্তার এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তর চকরহমত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ -৫ পেয়েছে। তবে দারিদ্র্যকে জয় করে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে কিনা সেই ভাবনায় তার বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। মহেশপুরের ইব্রাহিম ডাক্তার হতে চায় অভাব-অনটন আর সংসারের কোন বাধাই দমাতে পরিনি ইব্রাহিম খলিলকে। মহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে যোগীহুদা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও নুনুফা বেগমের পুত্র মোঃ ইব্রাহিম খলিল। বাবা কৃষি কাজ করে জীবনধারণ করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ইব্রাহিমকে তার বাবার কাজে সহযোগিতা করতে হয়। এর মধ্যে সে ৭/৮ ঘণ্টা লেখাপড়া করেছে। সে লেখাপাড়া করে একজন ভাল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় কিন্তু তার পরিবারের বড় বাধা অভাব। গঙ্গাচড়ার পারভেজ প্রকৌশলী হতে চায় তেল কেনার টাকাও থাকে না। খাবার থাকে না ঘরে। এ অবস্থায় গোল্ডেন জিপিএ -৫ পেয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঝাল মুড়ি বিক্রেতার ছেলে পারভেজ মোশাররফ। উপজেলার হাবু কুটির পাড় গ্রামের সোলজার আলীর পুত্র পারভেজ। অভাবের সংসার। জমাজমি নেই। সে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পারভেজ প্রতিদিন ৪/৫ ঘণ্টা করে লেখাপড়া করেছে। ভবিষ্যতে সে একজন প্রকৌশলী হতে চায়। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য নেই পারভেজের। কাঠালিয়ার বেলালের জিপিএ-৫ অর্জন নুন আনতে পানতা ফুরায়, জমি বলতে ভিটেছাড়া কিছুই নেই। বাবা জেলে ইউনুচ আলী সারাদিন মাছ ধরে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে ৪ জনের সংসার চলে না। এমন এক অভাবী সংসারে ছেলে মো. বেলাল হোসেন দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে কাঠালিয়া বিল ছোনাউটা তোতা মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাড়িতে বিদ্যুত্ না থাকায় কুপির আলোতে ২-৩ ঘণ্টার বেশি পড়তে পারেনি সে। ভাল এ ফলাফলে বাবা-মা মহাখুশি হলেও হতাশায় ভুগছেন ছেলেকে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারবেন কিনা। উলিপুরে দুই সহোদরের দারিদ্র্য জয় দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে সাফল্য অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই সহোদর। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সহোদর আল আমিন সরকার ও আনোয়ার হোসেন। তাদের বাড়ি উপজেলার পশ্চিম শিববাড়ি গ্রামে। বাবা ফেরদৌস আলী ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। তিন ভাই, মা ও দাদা-দাদী মিলে ৬ জনের টানাটানির সংসার। অর্থনৈতিক কারণে উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ। আল আমিনের স্বপ্ন ডাক্তার হবার এবং আনোয়ার হোসেনের ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার।