১৯৫৮ সালের পেলে কিংবা ১৯৯৮ সালের মাইকেল ওয়েন—বিশ্বকাপ মানেই একগাদা তরুণ খেলোয়াড়ের জন্ম। এর বিপরীত চিত্রটাও দেখা যায় বিশ্বকাপে। ইতালির এককালের গোল রক্ষক ডিনো জফ থেকে শুরু করে ক্যামেরুনের রজার মিলাররা চল্লিশের কোঠায় বয়স নিয়েও আলো ছড়িয়েছেন।
বুড়ো ৫
দিদিয়ের দ্রগবা (আইভোরি কোস্ট)
জন্ম : ১১ মার্চ, ১৯৭৮
চেলসির হয়ে আট বছরের বিস্ময়কর ক্যারিয়ার, দু’বারের আফ্রিকান সেরা ফুটবলের পুরস্কার—এই সব কিছু অর্থহীন হয়ে যায় জাতীয় দলে আসলেই। বলা হচ্ছে ২০০৬ সাল থেকে আইভরি কোস্টের অধিনায়কত্ব করা দিদিয়ের দ্রগবার কথা। আফ্রিকান দেশটির হয়ে বিশ্বকাপ গোলের মালিকও এই দ্রগবা। দেশের হয়ে ৬০ গোল ও দুটি বিশ্বকাপ খেলা দ্রগবার নিজেকে বিশ্বকাপে মেলে ধরার এটাই শেষ সুযোগ। বয়স যে হয়ে গেছে ৩৬!
স্টিভেন জেরার্ড (ইংল্যান্ড)
জন্ম : ৩০ মে, ১৯৮০
সর্বশেষ মৌসুমটা অল্পের জন্য রঙিন হয়ে উঠতে পারেনি। সেটা নিয়ে অবশ্যই কষ্ট থাকবে স্টিফেন জেরার্ডের। লিভারপুল তারকার সেই দুঃখ ভোলার মোক্ষম সুযোগ বিশ্বকাপ। ৩৪ বছরে পা রাখতে যাওয়া স্টিফেন জেরার্ড নিশ্চয়ই চোখ রাখছেন সেদিকেই। ১০৯ ম্যাচে ২১ গোল করা জেরার্ডের নেতৃত্বেই কি এবার চার দশকের ক্ষরা কাটানোর মিশন ইংল্যান্ডের সামনে। ববি মুর হয়ে উঠতে পারবেন জেরার্ড?
মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানী)
জন্ম : ৯ জুন, ১৯৭৮
একের পর এক হেড থেকে গোল করে যাচ্ছেন, দুই হাত তুলে করছেন পরিচিত উল্লাস। বিশ্বকাপের বাইরে তাকে নিয়ে খুব একটা আলোচনা না হলেও বিশ্বকাপ আসলেই তিনি হয়ে ওঠেন মহাগুরুত্বপূর্ণ একজন। জার্মান সেই ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসার এটাই হতে যাচ্ছে শেষ বিশ্বকাপ। ৩৫ বছর বয়সী ক্লোসার জন্য বিশ্বকাপে অপেক্ষা করছে দুটি অর্জন। জার্মানীর হয়ে ১৩১টি ম্যাচে ক্লোসা ৬৮টি গোল করা। ক্লোস আর মাত্র একটি গোল করলেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান অর্জন করবেন। একই সাথে ছুঁয়ে ফেলবেন বিশ্বকাপে রোনালদোর করা ১৫টি গোলের রেকর্ড। বুড়ো ষাঁড়ের ভেলকি দেখা যাবে তো এবার?
আন্দ্রে পিরলো (ইতালি)
জন্ম : ১৯ মে, ১৯৭৯
ফুটবলকে তিনি নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। ২০১১ সালে এসি মিলান ছাড়ার পর এক রকম শেষই হয়ে গিয়েছিল তার ক্যারিয়ার। কিন্তু বয়সকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আবারও ফিরেছেন। জুভেন্টাসের হয়ে জিতেছেন টানা তিনটি সিরিএ শিরোপা। ২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্বকাপ এনে দেয়া পিরলোর বয়স এখন ৩৫। ১০৮ ম্যাচে গোল করেছেন ১৩ টি। এবারই বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে তার পাসিং দক্ষতা ও অসাধারণ সেট পিসের শেষ নিদর্শন।
জাভি হার্নান্দেজ (স্পেন)
জন্ম : ২৫ জানুয়ারি, ১৯৮০
২০০৮ ও ২০১২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১০ বিশ্বকাপ — সামপ্রতিক সময়ে স্পেনের সবগুলো বিজয়ের গল্পের নেপথ্য নায়ক ছিলেন জাভি হার্নান্দেজ। আর তাইতো ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের উপর এবারও আস্থা রেখেছেন স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্টে ডেল বস্ক। স্পেনের হয়ে ১৩০ ম্যাচে হার্নান্দেজ করেছেন ১৩টি গোল। মাঝমাঠে নির্ভরযোগ্যতা এবার ব্রাজিলেও দেখা যেতে পারে।
তরুণ ৫
সার্জে অ্যারুয়ের (আইভরি কোস্ট)
জন্ম : ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৯২
ক্ষীপ্রগতির উইং-ব্যাক অ্যারুয়েরের পেশাদার ফুটবলে যাত্রা হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সে। ফরাসী লিগ ওয়ানের সর্বশেষ মৌসুমে তিনি অভিষেকেই নজর কেড়েছেন। ক্লাব কোচ অ্যালাইন ক্যাসানোভার মতে, ফরাসী লিগে সে এই মুহূর্তে সেরা রাইট-ব্যাক, ‘এই মুহূর্তে ওই সেরা। কিছু উন্নতির জায়গা যদিও আছে। তারপরও ওর মধ্যে প্রচুর প্রতিভা আছে।’ বিশ্বকাপে ২১ বছর বয়সী অ্যারুয়ের নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারবেন তো?
উইলিয়াম ক্যারভালো (পর্তুগাল)
জন্ম : ৭ এপ্রিল, ১৯৯২
স্পোর্টিং লিসবন থেকে উঠে আসা কিংবদন্তীর মধ্যে লুইস ফিগো আছেন, আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবারের বিশ্বকাপে আরেকজন আসতে যাচ্ছেন ক্লাবটি থেকে। তিনি হলেন ২২ বছর বয়সী উইলিয়াম ক্যারভালো। সুইডেনের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ‘ঐতিহাসিক’ প্লে-অফ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক ঘটে তার। স্পোর্টিং লিসবন সতীর্থ ডিয়েগো ক্যাপেলের ভাষায়, ‘তাকে নিয়ে সবাই ভবিষ্যতে অনেক কথা বলবে।’ তার শুরুটা কি এই বিশ্বকাপেই হতে যাচ্ছে?
পল পোগবা (ফ্রান্স)
জন্ম : ১৫ মার্চ, ১৯৯৩
‘তার মধ্যে সব কিছু আছে’ - বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসী অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ দিদিয়ের
দেশমের এমন কথার পর আর পল পোগবাকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ২০১২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে আসেন জুভেন্টাসে। প্রথম দুই মৌসুমেই নিজেকে আলাদা করে চেনাতে পেরেছেন। ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এর মধ্যেই অভিনব টেকনিক ও দূর থেকে গোল করার দক্ষতার কারণে হয়ে উঠেছেন এক আলোচিত চরিত্র। বিশ্বকাপ এখন সেই আলো দেখার অপেক্ষায়!
রাহিম স্টার্লিং (ইংল্যান্ড)
জন্ম : ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৪
সর্বশেষ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আলো ছড়ানো খেলোয়াড়দের একজন তিনি। লিভারপুলের হয়ে শেষটা ভাল না হলেও গোটা মৌসুম জুড়েই ছিলেন আলোচনায়। ব্রেন্ডন রজার্স তাকে সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলালেও ইংল্যান্ডে তাকে দেখা যেতে পারে রাইট উইংয়ে। ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের ব্যাপারে ইংলিশ কোচ রয় হজসনের মন্তব্য, ‘ওকে দুর্বল ভাবার কোন সুযোগ নেই!’
আদনান জানুযাজ (বেলজিয়াম)
জন্ম : ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫
বয়স মাত্র ১৯। এর মধ্যেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মনে রাখার মত একটা মৌসুম কাটিয়ে ফেলেছেন আদনান জানুযাজ। আর পারফরম্যান্সের সুবাদে মার্ক উইলমটের বিশ্বকাপ দলেও চলে এসেছে সুযোগ। গত অক্টোবরে প্রিমিয়ার লিগে স্যান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোলের পর গণমাধ্যমগুলোর নজরে আসেন তিনি। এবার কি নজর কাড়বেন বিশ্বকাপেও?
