আমার কথা

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২০:১১
মা সেকালের হলেও গীতিকার, সুরকার, সংগীতশিল্পী ও দক্ষ ফুটবল খেলোয়ার বাবার হাত ধরে সাংস্কৃতিক জগতে আমার প্রবেশ। বাবার কাছে সংগীত আবৃত্তি ও অভিনয় চর্চার হাতেখড়ি। ১৯৫০ সালে মায়ের মৃত্যু। ’৫১তে আমাদের জন্য বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন, বগুড়ায়। তখন আমি নন্দীগ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। একদিন মধ্যরাতে হঠাত্ ঘুম থেকে উঠে দু’লাইন কবিতা লিখলাম- ‘হে বিশ্বচালক তুমি হে মহান/তোমারই কাছে সকলে সমান।’ এই আমার প্রথম লেখা কবিতা। ছোট বেলা থেকেই বাবার লেখা গানের খাতা চুরি করে পড়তাম। তখন ষষ্ঠ শ্রেণি পাশ, ভাল ফুটবল খেলতাম। সত্ চাকুরিজীবী বাবার অর্থ সংকোটের জন্য লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আমি গাবতলী হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে লজিং থেকে ছাত্র পড়িয়ে নিজের পড়ার খরচ চালাই। তখন বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলার অধ্যাপক ‘অতএব’ পত্রিকার সম্পাদক মহসিন আলী দেওয়ান ও অধ্যাপক মো. মোবারক স্যারের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় আমার প্রথম ছড়ার বই ‘অর্পণ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ তে। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘লুবনা’ ছড়াটি ছাপা হয় ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে। সেই সুবাদে রংপুর তিস্তা প্রজেক্টে অনিয়মিত নকশানবিশ পদে চাকুরিতে যোগদান। বাবার অবসর জীবন, অনটন সংসারের দায়ভার চাপে আমার ঘাড়ে। পরবর্তীতে প্রাইভেটে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পাশ। সেই সময় দিনাজপুর জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবি কাজী কাদের নেওয়াজ ও নাজিমুদ্দীন হলের প্রতিষ্ঠাতা হেমায়েত আলীর আহ্বানে প্রতি শুক্রবার নওরোজ সাহিত্য আসরে লেখা নিয়ে নিয়মিত উপস্থিত হতাম। পল্লীকবি জসীম উদদীনের সংশোধিত কবিতাগুলো ও কবি-কাদের নেওয়াজের লেখা ভূমিকা দিয়ে আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘অপেক্ষা’ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ তে। বইটি প্রকাশে কিছু অর্থ ও কবি পরিচিতি আসে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে চিত্রনায়ক রহমানের ছায়াছবিতে অভিনয় করি। পরবর্তীতে সঙ্গীত চর্চা ও অভিনয় ব্যস্ততার সাথে গান লেখার চাহিদা বেড়ে যায়। ১৯৬৬ তে তত্কালীন রেডিও পাকিস্তান রাজশাহী থেকে অনুমোদিত গীতিকার এবং ৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর রেডিওতে খাদেমুল ইসলাম বসুনিয়ার সুর ও কণ্ঠে প্রথম সমপ্রচার হয় আমার লেখা ঈদের গান। রংপুর ও রাজশাহী রেডিও’র জন্য ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, আধুনিক, বাউল, ইসলামি, ভাটিয়ালি, ঠুমরী, রাগ প্রধান ও গজল সবরকম গান ও গীতি-নকশা লেখার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অটোগ্রাফও দিতে হতো মাঝে মধ্যে। কবি কাদের নেওয়াজের অনুপ্রেরণায় সত্সাহিত্য ও সুস্থ্য সংস্কৃতি চর্চার লক্ষে ১৯৭৮ এর ৫মে তারিখে প্রতিষ্ঠা করি অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ। ৫ মে প্রতিষ্ঠা আসরের প্রথম সভাপতিত্ব করেন প্রয়াত বন্ধু মো. সামসুল হক লাল। পরে সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সুফী মোতাহার হোসেন। সংগঠনের মনোগ্রাম ও গঠনতন্ত্র তৈরী করে সাধারণ সভায় অনুমতি নিয়েছি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে এসেছি ২০০৩ পর্যন্ত। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নতুন লিখিয়েদের অনুপ্রেরণার জন্য ৫টি বই প্রকাশ করেছি অভিযাত্রিক প্রকাশনী থেকে। অভিযাত্রিক সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা ও যৌথ সম্পাদনা রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা। ১৯৯০-৯৬ পযন্ত দৈনিক যুগের আলোর সাহিত্য পাতার দায়িত্ব পালন। বর্তমানে ‘উত্তরমেঘ’ মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত লিখে আসছি। সন্মাননা লাভ করেছি এবং জীবনে যাঁদের সান্নিধ্য পেয়েছি, তাঁরা হলেন : কবি কাজী কাদের নেওয়াজ, পল্লীকবি জসীম উদদীন, কবি বে-নজির আহমেদ, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, কবি কায়সুল হক, ছড়াকার রফিকুল হক (দাদু ভাই), মৌলভী খেরাজ আলী, চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন, সাংবাদিক ও লেখক আনিসুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি নাসির আহমেদ, সঙ্গীত শিল্পী স্বর্গীয় ওসত্মাদ হরিপদ দাস, আব্দুল জোব্বার, সাজেদার রহমান, অজিত রায়, সাজু ভাই, জওহর আলী, নাট্যজন কাজী মোঃ ইলিয়াস, তিতু মুন্সী, বিমল ভট্টাচার্য, গিরিণ ঘোষ প্রমুখ। আমার জন্ম ১৯ জানুয়ারী ১৯৪১ রংপুর, মুন্সিপাড়ায়। পিতা মরহুম নছিমুদ্দীন আহমেদ, মাতা মরহুমা সাহেরা খাতুন। বাবা মায়ের তৃতীয় সন্তান। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা। মুন্সিপাড়া প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া শুরু। সরকারি কর্মকর্তা পিতার চাকুরির সুবাদে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অস্থায়ী বসবাস, বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয় ও বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করার বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন। আমি এখনো কচি-কাঁচার আসরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ছড়া-কবিতা লিখে আসছি।