আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২২:৪৬
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখলেও এদের ভবিষ্যত্ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অধিকাংশ পরিবার। অভাব-দারিদ্র্য তাদের স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। ভবিষ্যত্ নিয়ে দুশ্চিন্তায় এতিম কাদির যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আব্দুল কাদির। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সে সকলের ছোট। হতভাগ্য আব্দুল কাদিরের জন্মের দেড় বছরের মাথায় পিতা এবং এর কয়েক বছর পর মাতাকেও হারায় সে। অবশেষে কাদিরের ঠাঁই হয় পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ এতিমখানায়। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিলো প্রবল। ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবার পর দূর সম্পর্কের চাচা মশিয়ার রহমান তাকে নিজ বাড়িতে লজিং দিয়ে স্থানীয় জালঝাড়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন; কিন্তু বর্তমানে উচ্চ শিক্ষা ও ভবিষ্যত্ নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় কাদির। কামলা খেটে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে মামুন রাজমিস্ত্রি থেকে কামলা খাটা পর্যন্ত সব ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে পড়াশুনা চালিয়েও এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে শিবগঞ্জে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে মেধাবী ছাত্র মামুন আলী। কামলা হিসাবে ধান কাটার সময় বড় ভাই মোবাইলে ফোন করে তার ফলাফল জানায়। শিবগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙ্গন কবলিত বাবুপুর গ্রামের দিনমজুর এজাবুল হকের ছেলে মামুন। জমিজমা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আশঙ্কা- পিতা-মাতা তার লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবে কি-না। দিনমজুরের মেয়ে রহিমা পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫ লালমনিরহাটে নায়েগড় হারাটি গ্রামের দিনমজুর আমিনুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে রহিমা খাতুন এবছর সাপ্টিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। অদম্য এ মেধাবী রহিমা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে চিকিত্সক হয়ে জনগণের সেবা করতে ইচ্ছুক; কিন্তু তার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্যতা। দারিদ্র্যকে পরাজিত করেছে আসমা আক্তার পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের হোটেল কর্মচারী মো. ফরিদ খানের মেয়ে আসমা আক্তার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেধাবী ছাত্রী আসমার এই সাফল্যে তার বাবা এবং মা ফাতিমা বেগম বেজায় খুশি। তবে দারিদ্র্যকে জয় করে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারবে কিনা সেই ভাবনায় তারা চিন্তিত। আবিদের কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গৌরনদী উপজেলার বাউরগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া আবিদ হোসেনের অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কটকস্থল গ্রামের চায়ের দোকানদার রতন গোমস্তার পুত্র আবিদ। পড়াশুনার অবসরে আবিদ চায়ের দোকানে বাবাকে সহযোগিতা করতো। আবিদ ভবিষ্যতে একজন ব্যাংকার হতে চায়। এজন্য সে সমাজের মহানুভব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন।