শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আজ মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২৩:১৬
আজ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি বাঙালির শিল্পকলার ঐতিহ্য নির্মাণ ও আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃত্ ব্যক্তিত্ব। তার অসাধারণ নেতৃত্ব গুণে ১৯৪৮ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে গড়ে ওঠেছিল ঢাকা আর্ট কলেজ। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। পরে এটি হয় চারুকলা ইনস্টিটিউট। তার যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আজ চিত্রকলায় এক অনন্য অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। শিল্পাচার্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫ সালে ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে তার শিল্পীমানস গড়ে ওঠে। ১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। এখানেই তার ইউরোপীয় ও আধুনিক চিত্রকলার সাথে পরিচয় ঘটে। ১৯৩৮ সালে তিনি সর্বভারতীয় চিত্রপ্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তার চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতিবাদী ভঙ্গি মূর্ত হয়ে উঠেছে। তার সংগ্রাম ও দুর্ভিক্ষ সিরিজের চিত্রগুলো আজো মানুষকে শক্তি দেয়। দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবার সাহস। বাংলাদেশে চিত্রকলার আধুনিকতা ও প্রসারে, সাংস্কৃতিক অচলায়তন ভাঙতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সৃষ্টিকর্ম ও তার ব্যক্তিগত কর্মতত্পরতা যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে নিরন্তর অনুপ্রেরণা যোগাবে। শিল্পীর কালজয়ী শিল্পকর্ম দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও বিপুল প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। অসাধারণ শিল্প-মানসিকতা ও কল্পনাশক্তির জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধিতে ভূষিত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলার প্রকৃতি, বাঙালির জীবনযাত্রা, সমৃদ্ধি, দারিদ্র্য এবং স্বাধীনতার স্পৃহা তার তুলি আর ক্যানভাসে মূর্ত করে তুলেছিলেন। চিত্র ও শিল্পকলার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন।