প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ড. কামালের ইফতারে ফারুক খান

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ২২:৫৩

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও পেশাজীবীদের সম্মানে গতকাল রবিবার ঢাকায় ইফতারের আয়োজন করেছিল ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম। রাজমনি ঈশা খাঁ হোটেলে আয়োজিত এই ইফতারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিডিপি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান তার বক্তব্যে বলছিলেন, ‘সরকারি দল ইফতারের আয়োজন করছে, সেখানে বিরোধী পক্ষের নেতারা উপস্থিত থাকলে ভালো হতো। একইভাবে আজকের এই ইফতারেও সরকারি দলের লোকজন একসঙ্গে বসে ইফতার করতে পারলে ভালো হতো। অন্তত রোজার মাসে এই সংস্কৃতিটা গড়ে উঠলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য ভালো দেখাতো। ভারতে নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ পরিচালনার কথা বলেছেন। আমাদের এখানেও আমরা সেরকম আশা করি।’ তার এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই অনুষ্ঠানস্থলে এসে হাজির হন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান।

ফারুক খান করমর্দন করে কুশল বিনিময় করতে এলে রেহমান সোবহান তাকে বলেন, ‘আমি এই মাত্র বলছিলাম—সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করলে ভালো হতো।’ পরে ইফতারের আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফারুক খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকের এই ইফতারে আওয়ামী লীগকেও আমন্ত্রণ জানানোয় আমি ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে আজ এখানে উপস্থিত হতে পারেননি, সেজন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আসুন আমরা সবাই দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী যেন আরো ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারেন।’

এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে এখন ইফতার রাজনীতি চলছে। ওখানে কজন গেলেন, এখানে কজন এলেন—এই ধরনের তুলনামূলক রাজনীতিতে আমি যেতে চাই না। এরকম রাজনীতি আমরা চাই না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, অনেকে বলেন—রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কোনো কথা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটাই বিপদ। রাজনীতিতে শেষ কথা রাখার সময় এসেছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আরো সম্প্রসারিত করে গণতন্ত্রের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আমরা যে ধরনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম এদেশের মাটিতেই সেটা অর্জন করতে হবে। স্বাধীন দেশে আজ আমরা স্বাধীন নই, এটা লজ্জার বিষয়। এই লজ্জা নিয়ে আজ আমরা বেঁচে আছি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এ সরকারের কোনো দয়ামায়া নেই, ধর্মের প্রতিও তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। তা নাহলে এই রোজার মাসে বগুড়ায় ডাকসুর ভিপির ওপর ছাত্রলীগ এভাবে হামলা করতে পারতো না। তিনি বলেন, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ জিততে পারতো না। সেজন্য সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ন্যক্কারজনকভাবে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ ডিসেম্বর করে ফেলেছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, জনসমর্থনের দিক থেকে সরকার দেউলিয়া।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ডাকসুর ভিপির ওপর হামলায় সরকারের নিশ্চয়ই মদদ রয়েছে। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন—ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় ভোট হলো। সেখানকার মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন। আমরা কী দোষ করেছি যে আমাদের ভোটের অধিকার নেই? বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বন্ধ্যা ও খরা চলছে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন— কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, বিকল্পধারার একাংশের মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোকাব্বির খান এমপি প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।

মন্টুর পৃথক ইফতার

এদিকে, গণফোরামের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য মোস্তফা মোহসীন মন্টু গতকাল রাজধানীর স্টার কাবাব হোটেলে পৃথক এক ইফতারের আয়োজন করেন। সেখানে তার ব্যক্তিগত বন্ধু-স্বজন ছাড়াও গণফোরামসহ কয়েকটি দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।