স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১৪ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জিরো টলারেন্স তথা কঠোর অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। এর মধ্যে কোনভাবেই রাজনীতিকে জড়ানো যাবে না। তিনি নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের নৃশংস ঘটনা নিয়ে বিএনপিকে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান।
‘আওয়ামী লীগ আরো পচলে তারপর আন্দোলন’—সম্প্রতি খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তাহলে কি তিনি (খালেদা) চান দেশে আরো অরাজকতা হোক? এ ধরনের কথা কোনো দায়িত্ববান নেতার মুখে মানায় না। এসব কথা শুনে মনে হয়, খালেদা নৈরাজ্য চান এবং তিনি মানুষ খুনে বিশ্বাস করেন। আসলে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কোন পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার র্যাব বিলুপ্ত করার দাবির সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, র্যাব তো আপনাদেরই সৃষ্টি। এখন কেন বিলুপ্ত করতে চান? আসলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হোক, মানুষ খুন হোক এটাই তিনি চান। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি ফায়দা লোটার ষড়যন্ত্র করছেন।
চার বিভাগে সমাবেশ:মোহাম্মদ নাসিম জানান, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন ও অপপ্রচার জনসম্মুখে প্রকাশ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা, সরকারের সফলতা প্রচার ও তৃণমূলে ১৪ দলকে সুসংগঠিত করতে আগামী জুন মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে সমাবেশ করবে ১৪ দল। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে পরিবহন ধর্মঘট অনাকাঙ্ক্ষিত। ধর্মঘট আহ্বানকারীদের সঙ্গে বসে বিষয়টা মীমাংসা করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, শুধু উন্নয়ন করলেই হবে না। নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের মতো ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য জোট নেত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, ১৪ দল মনে করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘জিরো টলারেন্সে’ অগ্রসর হতে হবে। এখান থেকে একচুলও সরে আসা যাবে না।
‘প্রজ্ঞাবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাই’:জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ, সিনিয়র ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানানো উচিত। তিনি বলেন, প্রশাসনকে আরো তত্পর হতে হবে। ঘটনার পর সক্রিয় হওয়ার চেয়ে কোন ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু কিছু ঘটনায় সুশাসন ব্যাহত হচ্ছে। সুশাসন যাতে প্রতিষ্ঠিত হয় সেদিকে আরো বেশি নজর দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ন্যাপ নেতা ইসমাইল হোসেন, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এমএ আউয়াল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।
