বাঘায় খাস জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির অভিযোগ

আপডেট : ২৮ মে ২০১৪, ২১:২৫
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি টাকার বিনিময়ে ৪১১১ নম্বর দলিল মূলে ব্যক্তি নামে ২০ লাখ টাকায় রেজিস্ট্রি সম্পাদন করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই জমির নকল কিংবা দলিল না পেয়ে জমির ক্রেতা আনছারী ওরফে আনোয়ার হাবিব রশিদ নিয়ে দিনের পর দিন সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ঘুরছেন। উপজেলার আড়ানি গ্রামের আনোয়ার হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, দলিল লেখক আয়েজ উদ্দিন আমাকে, বাঘা সাব রেজিস্ট্রার অজয় কুমার ও অফিস সহকারী (পেশকার) রফিকুল ইসলামকে জমির মালিক আফতাব হোসেনের ঢাকার বাসায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ফিরে জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে আমাকে একটি ইনফর্মেশন (রশিদ) স্লিপ ধরিয়ে দেন। এখন পর্যন্ত আমি দলিল বা দলিলের নকল কপি পাইনি। শুধু আনোয়ার হাবিব নয়, আরো অনেকে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় অসত্ ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কথিত দলিল লেখকদের কাছে হয়রানি শিকার হচ্ছে। অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোন মন্তব্য কিংবা তথ্য প্রদান করতে রাজি হননি। বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার শাহাদত আলী জানান, আমি এক সপ্তাহ পূর্বে এখানে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে যোগদান করেছি। তাই এসব বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। রামগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, জেলার রামগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন থেকে অনিয়ম, সীমাহীন দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের ফলে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। একটি বিশেষ মহলের সহযোগিতায় বর্তমানে রামগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসটি পরিণত হয়েছে ঘুষের আখড়ায়। দলিল লেখকদের কাছ থেকে সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ আশ্রাফউজ্জামান ভূঁইয়ার নির্দেশমত নকলনবিস জহিরুল ইসলাম কমিশনের নামে এ ঘুষ আদায় করে আসছেন । কোন লেখক ঘুষ কম দিতে চাইলে সাব-রেজিষ্ট্রার উক্ত লেখকের দলিল রেজিষ্ট্রি করতে কৌশলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রেজিষ্ট্রি না করে লেখককে ভোগান্তিতে ফেলেন, এমনকি লেখকের সনদ বাতিলের হুমকি দেন। এতে করে এ অনিয়ম প্রকাশে কোন লেখক ভয়ে প্রতিবাদ করছেন না। সাব কবলা, হেবার ঘোষণাপত্র, বায়নানামা, অংশনামা, এওয়াজনামা, আমমোক্তারনামাসহ সব ধরনের দলিলে মৌজার মূল্য হিসাব করে মোট টাকার উপর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেয়া হয় এবং সকল প্রকার দলিলে মৌজার মূল্য হিসাব করে মোট মূল্যের উপর সাব রেজিষ্ট্রারের কমিশন হিসাব করে শতকরা ৭ টাকা হারে আদায় করা হয়। চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত তিন হাজার পাঁচশত দলিল রেজিষ্ট্রি বাবদ কয়েক কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করা হয়েছে। এই প্রতিবেদকের কাছে নকলনবিস জহিরুল ইসলাম কমিশনের নামে ঘুষ আদায়ের কথা স্বীকার করে সাব-রেজিষ্ট্রারের নির্দেশ পালন করছেন বলে জানান। এবিষয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ আশ্রাফউজ্জামান ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কোন বক্তব্য দিতে বাধ্য নয় বলে জানান।