বৃষ্টি হলেই বিদ্যুত্ নিয়ে চরম ভোগান্তি চট্টগ্রামবাসীর

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ২২:৫৬

বৃষ্টি হলেই বিদ্যুত্ নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চট্টগ্রামবাসীকে। গত ২/৩ দিনের বৃষ্টির সময় নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত্হীন থাকে। রমজান মাসে বিদ্যুত্ না থাকায় ভীষণ কষ্ট হচ্ছে মানুষের। জরাজীর্ণ বিতরণ লাইনের কারণে বৃষ্টি হলে তার ছিঁড়ে অথবা ট্রান্সফরমারে সৃষ্ট ত্রুটির কারণে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয় বলে পিডিবি কর্মকর্তারা দাবি করছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির কারণে গ্রাহকরা বিদ্যুত্ নিয়ে ভোগান্তি থেকে নিস্তার পাচ্ছে না।

চট্টগ্রামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটি কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এসময়ে নগরীর খাজারোড, চান্দগাঁও আবাসিক, ফরিদারপাড়াসহ কয়েকটি এলাকা ইফতারের পর থেকে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। একই সময়ে জুবলী রোড এলাকায় ইফতারের পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এছাড়া নগরীর বাকলিয়া, পাথরঘাটা, পতেঙ্গা, মাদারবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুত্ নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে গ্রাহকদের। পিডিবির ষোলশহর বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির সময় বিতরণ লাইনে নানা সমস্যা দেখা দেয়। তার ছিঁড়ে যায় ও ট্রান্সফরমারে বৃষ্টির পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মেরামত কাজের জন্য বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। চলমান বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ইতোমধ্যে অল্প কিছু এলাকায় উন্নয়ন কাজ হয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থা ভূগর্ভের ভেতর দিয়ে না নিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই সমস্যা কাটানো যাবে না।

পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১৮টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র রয়েছে। এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে দৈনিক ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। তারপরেও চট্টগ্রামে শহর ও জেলায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। জানতে চাইলে পিডিবি বিতরণ বিভাগ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ উত্পাদন আগের চেয়ে বেড়েছে। বিতরণ লাইনে নানা ত্রুটি রয়েছে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ওভারলোডের কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ বিতরণ করা যাচ্ছে না।

এদিকে, চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। কয়েক দফা বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশের মতো।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ ৫টি জেলায় বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। ওই প্রকল্পের আওতায় নতুন ১৫টি সাব-স্টেশন নির্মাণ ও ৮টি পুরাতন সাব-স্টেশন আপগ্রেডেশান করা হবে। প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হক বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সাব-স্টেশনের জন্য নতুন করে জায়গা অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কেউ সহজে জায়গা ছাড়তে চায় না। আবার রমজান মাসে কাজের জন্য বিতরণ লাইন বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।