রজব ও শাবান মাস

রমজানের পূর্বপ্রস্তুতির সময়

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২০:৩৪
গোটা বিশ্বে আজ প্রবাহমান অশান্তির দাবদাহে পুঞ্জিভূত অগ্নীস্ফুলিঙ্গ। যা মুহুর্তে মুহুর্তে আমাদের ঈমান, আকিদাহেক ভষ্মিভূত ও ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে। এখান থেকে পরিত্রাণের একমাত্র হাতিয়ার হ‘ল পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে আখেরাতমূখি জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী আমালে ছালেহেত দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা। যদি তা সম্ভব হয়, তবে দুনিয়াতে যেমন মর্যদা বৃদ্ধি পাবে তেমনি সমাজে নেমে আসবে শান্তিরফূয়ারা, আখেরাতের পাথেয় অর্জনসহ সেখানের পথ হবে সুগম ও স্বচ্ছ। নেক আমল পূর্ব পরিকল্পিত ও শরয়ী মানদণ্ডে হওয়া আবশ্যক। গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইহা একান্ত দ্বীনের দাবী। আমাদের অনুসরণীয় একমাত্র আদর্শ হযরত মুহাম্মাদ (স.) রজব ও শা‘বান মাসকে রমজানের পূর্বপ্রস্তুতির মাস হিসেবে নির্ধারিত করে সাধ্যমত প্রস্তুতি নিতে থাকতেন। বেশি বেশি ছিয়াম পালন, রাত্র জাগরণ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দান ছদাকা করা, উত্তম স্বভাব গঠন করা ইত্যাদি। একটি হাদিসে এসেছে ‘রসূলুল্লাহ (স.) রজব মাস আসার আগ থেকে দূ‘আ শুরু করতেন, হে আল্লাহ আমার রজব ও শা‘আবান মাসের যাবতীয় ইবাদত কবুল কর ও বরকত দাও এবং রমজান পর্যন্ত হায়াতকে দীর্ঘায়িত কর “আল্লাহুম্মা বারিকালানা ফী রজাবা ওয়া শা‘বানা ওয়া বাল্লিগনা ইলা শাহির রমজানা” অর্থ্যাত্ হে আল্লাহ আপনি আমার রজব এবং শা‘বানের বরকত প্রাপ্তীর ও রমজান পর্যন্ত হায়াত পাওয়ার তাওফীক দান করুন। আল্লাহ সুবহা-নাহু ওয়াতা‘আলার নৈকট্য হাছিলের যতগুলো মাধ্যম আছে তার অন্যতম বড় উপায় হল ছিয়াম সাধনা। আসমান যমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্রতম মাস হিসেবে ঘোষিত ৪টি মাসের ১টি হল রজব। আর শা‘বানের অধিকাংশ দিন ছিয়াম পালন করে তিনি বলতেন, রজব ও রমজানের মাঝখানে বছরের আমলনামা আল্লাহর নিকট জমা দেওয়া হয়, তাই আমি মুহাম্মাদ (স.) পছন্দ করি রোযা অবস্থায় আমার আমলনামা পেশ করা হোক। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলে কারীম (স.) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, যে লোক একদিন আল্লাহর পথে রোযা রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা তার মুখমন্ডল জাহান্নাম হতে সত্তর বত্সরের পথ দূরে সরিয়ে রাখবেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ, মুসনাদে আহমদ) নফল ‘ছিয়াম পালনের জন্য পছন্দনীয় মাস ছিল শা‘বান মাস, তিনি রোযা রাখতে রাখতে প্রায় রমজানের সাথে মিলাতেন’। (সহীহ আবূ দাউদ) শা‘বানের শেষ ২/১ দিন আগে ছিয়াম পালন বন্ধ করা, কারণ ইহা নিষেধ। (বুখারী-১৯১৪, মুসলিম-১০৮২) তবে আরবী মাসের (১৩, ১৪ ও ১৫) আইয়্যামে বীযের ছিয়াম যারা পালন করে তারা করতে পারবে। ১৫শা‘বান রোযা পালন করা বৈধ কিন্তু বিশেষ বৈশিষ্ট্য মনে করে পালন করা যাবে না। আল্লাহপাক আমাদের সার্বিক জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ কাজগুলোকে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে সঠিকভাবে সু-সম্পন্ন করার তাওফীক্ব দান করুন।