ভারতে আটকে থাকা দেড়শ কোটি টাকার এলসি সমন্বয় না হওয়ার শঙ্কা

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ০০:২৩

দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সিলেটের চারটি স্থলবন্দর দিয়ে মেঘালয়ের কয়লা রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এতেও পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি। কারণ ৩১ মে পর্যন্ত কয়লা আমদানির যে অনুমতি দিয়েছে তাতে ভারতের ব্যাংকে আটকে থাকা এলসির দেড় শত কোটি টাকার সমন্বয় হবে না। 

সূত্র জানায়, ভারতের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শুধু উত্তোলিত অবশিষ্ট কয়লা রপ্তানি করা যাবে। ১৭ মের আদেশটি পেয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা গত মঙ্গলবার রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন। তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও এবং বাগলী এই তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে কয়লা বাংলাদেশে আসবে। কিন্তু কয়লা আমদানির বড় স্থলবন্দর তামাবিল দিয়ে বুধবার পর্যন্ত কয়লা আমদানি শুরু হয়নি।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি চন্দন সাহা ইত্তেফাককে বলেন, মাত্র ১১ দিনে ভারতে আটকে থাকা এলসির দেড়শ’ কোটি টাকার সমন্বয় হবে না। কয়লা আমদানি বাবদ সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীদের এলসির অন্তত দেড় শত কোটি টাকার সমন্বয় করতে হলে আমদানির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশে কয়লার চাহিদা বছরে অন্তত ৪৫ লাখ টন। এর ৩০ লাখ টন কয়লা আমদানি হয়ে থাকে সিলেটের তামবিলসহ চার শুল্ক স্টেশন থেকে।

তাহিরপুর কয়লা আমদানি কারক গ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমপাদক আবুল খায়ের বলেন, এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তোলিত কয়লা আমদানি হবে জেনে এলসি করেন ব্যবসায়ীরা। অথচ ১৫ জানুয়ারি হঠাত্ করেই রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কোটি কোটি টাকা মেঘালয়ের রপ্তানিকারকদের কাছে আটকা পড়ে। এ নিয়ে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে জটিলতা শুরু হয়। তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারকরা বলেন, আমদানি কার্যক্রমে এই তিন বন্দরের  অসংখ্য শ্রমিকের জন্য যেন তৃষ্ণার্থ মাঠে এক পশলা বৃষ্টি। একেতো রমজান, তারপর ঈদ দরজায়; এ অবস্থায় কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন শ্রমিকরা।

ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয় সরকারকে কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেয়। এ কারণে একই বছর ১৩ মে থেকে মেঘালয়ের সীমান্তের জেলাগুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া-চারাগাঁও, বাগলী ও তামাবিল দিয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে রপ্তানিকারকরা উত্তোলিত কয়লার রাজস্ব জমা দিয়ে ১৫ সালে তিন মাস রপ্তানির সুযোগ পান।