দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এবারের এসএসসিতে ভাল ফলাফল করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন অনেকেই। কিন্তু সামনে তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত্। অর্থাভাবে লেখাপড়া হবে কিনা তাও জানে না। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
দেবীগঞ্জে মর্জিনার
গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের ছত্রশিকারপুর গ্রামের রিকশাচালক আব্দুল মজিদ ও গৃহপরিচালিকা সাবিনা ইয়াসমিনের একমাত্র মেয়ে মর্জিনা আক্তার পেয়েছে গোল্ডেন এ প্লাস। কৃতিত্বের সাথে পাস করলেও অর্থাভাবে দরিদ্র পরিবারের এই মেধাবী ছাত্রী ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছে না। মর্জিনা আক্তার ভবিষ্যতে চিকিত্সক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার ইচ্ছা পূরণে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পুঠিয়ার আশিকুল চিকিত্সক হতে চান
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের দিনমজুর ইসমাইল হোসেন ও আছমা বেগমের পুত্র মোঃ আশিকুল ইসলাম উপজেলার পিএন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে চিকিত্সক হতে চায়। হতদরিদ্র বাবা আশিকুলের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে, নাকি দারিদ্র্যের কাছে তাকে হার মানতে হবে।
নবীনগরের সোনিয়ার গোল্ডেন
জিপিএ-৫ অর্জন
অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন সোনিয়া আক্তার। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তার ভর্তি হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফল প্রকাশের দিনও সে পিতার সাথে অন্যের জমিতে ধান কাটায় ব্যস্ত ছিল বলে এলাকাবাসী জানান।
গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শ্যামলের পড়ালেখা অনিশ্চিত
সত্যিই আঁধার ঘরে চাঁদের আলো শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পলাশিকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্যামল পারভেজ। এবার মানবিক বিভাগ থেকে সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার স্বপ্ন ভালো কোন কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু বাধ সেধেছে দরিদ্রতা। বৃদ্ধ পিতা হাফিজউদ্দিন কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। আবাদী কোন জমিও নেই। তাই অনিশ্চয়তায় পড়েছে শ্যামলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত্।
হাতিবান্ধার ফারজানার
জিপিএ-৫ অর্জন
ফারজানা আক্তার শিউলী মায়ের সাথে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরের কাজ করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্বপ্ন দেখেন ব্যারিস্টার হওয়ার। যদিও সেই স্বপ্ন পূরণে পথে পথে রয়েছে সংশয় ও নানা বাধা। তারপরও এগিয়ে যেতে চায় শিউলী। শিউলী লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের দিনমুজর দম্পতি ফজলুল হক-নবিরন নেছার মেয়ে।
দারিদ্র্যই স্বপ্নের পথে বড়
বাধা মেধাবী তাসলিমার
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খোরদো গ্রামে তাসলিমাদের বাড়ি। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে বড়। বাবা নজিম সরদার গ্রাম-গঞ্জে লালন সঙ্গীত গেয়ে যা পান তাতে তার নিজের পেট চলে না। মা শাহিদা বেগম অন্যের ক্ষেতে কাজ করে যা মজুরি পায় তা দিয়েই চলে সংসার। ভূমিহীন তাসলিমারা গ্রামের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের বাড়ির পেছনে খুপড়ির মধ্যে থাকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও ফলাফল প্রকাশের সময় সে মাঠে অন্যের জমিতে ধান কুড়াচ্ছিল।
