ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। ভালোভাবে টিকিট বিক্রি শেষ করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে রেল সেবা অ্যাপ নিয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুটা বিব্রত। এদিকে রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অবস্থায়ই এবার কাউকে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করবে রেল পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ।
সূত্র জানায়, গত ৫ দিনে কমলাপুরসহ অন্য চারটি কাউন্টার থেকে প্রায় সোয়া লাখ টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। গত ২২ মে থেকে ঈদের আগাম টিকিট শুরু হয়। আর ফিরতি ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৯ মে থেকে। রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের মতো এবার টিকিটের জন্য কারও ‘ডিও’ না নেওয়ায় কোনো টিকিট ‘ব্লক’ করে রাখার প্রয়োজন পড়েনি। এ কারণে কাউন্টার থেকে টিকিট প্রত্যাশীরা পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত টিকিট। তবে যাত্রীরা মনে করছেন, টিকিট বিক্রির প্রথম দিন দুদকের কর্মকর্তারা কমলাপুর স্টেশনে হানা দেওয়ায় চিত্র পাল্টে গেছে।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জানিয়েছেন, গত দুই দিনে সর্বাধিক সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছে। তবে টিকিটের বেশি চাহিদা ছিল পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, নতুন নতুন ট্রেন যুক্ত হবার কারণেই টিকিট প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি ছিল। কালোবাজারে টিকিট বিক্রির ব্যাপারে তিনি বলেন, কালোবাজারে টিকিট বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অ্যাপের ব্যাপারে বলেন, অভিযোগ রয়েছে, তারপরও অ্যাপে টিকিট বিক্রি হয়েছে। কোনো টিকিটের চাহিদা বেশি ছিল— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দূরবর্তী স্থানের টিকিট বিক্রি হয়েছে বেশি। কম দূরত্বের টিকিট রয়ে গেছে। কাউন্টার থেকে বিক্রি চলবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন রেল সেবা অ্যাপসের ব্যাপারে বলেন, অ্যাপ এবং অনলাইনে মানুষের ভোগান্তি হয়েছে এটা ঠিক। কারণ আমরা যে সার্ভারটি করেছি সেটি দুর্বল। তবে আগামী ঈদের আগে আমরা এটা আপগ্রেড করব। কালোবাজারির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি হয়েছে এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসেনি বলে তিনি জানান।
এদিকে রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোর্দেশ আলম বলেন, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেক সময় তা কার্যকর করা সম্ভব হয় না। তবে আমরা এবার ঈদের সময় ট্রেনের ছাদে যাতে কেউ ভ্রমণ করতে না পারে সে ব্যাপারে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, যারা ছাদে চড়বে তাদেরকে প্রথমে বুঝাবার চেষ্টা করব। না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর এটা যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের করতে হবে।
