ফুটবল বিশ্বকাপে পাকিস্তান—কথাটা বললে পাকিস্তানিরাও নিশ্চয়ই বিশ্বাস করতে পারবেন না।
তবে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানের খুবই উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকছে। কারণ, এই পাকিস্তানেরই ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা নগরী শিয়ালকোটে তৈরি হয়েছে ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল—ব্রাজুকা। চীনের নিয়মিত কারিগররা মান সম্পর্কে নিশ্চয়তা দিতে না পারায় এডিডাস এবার দ্বারস্থ হয়েছিল শিয়ালকোটের ফরওয়ার্ড স্পোর্টস নামে খাজা মাসুদ আখতারের প্রতিষ্ঠানের।
এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি করা ব্রাজুকা ম্যাচ বল প্রায় আড়াই বছর ধরে ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়ার নানা লিগে এবং বিভিন্ন নামকরা পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর গত বছর ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশকে এই বল সরবরাহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গত বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি’র চেয়ে অনেক ভালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে বলটির ব্যাপারে।
গতকাল ব্রাজুকার এক বিশেষ সংস্করণ সামনে এনেছে এডিডাস—ফাইনালের বল। সোনালী ও সবুজ রংয়ের কারুকাজের এই বলটি ১৩ জুলাই ফাইনালে ব্যবহূত হবে।
ব্রাজুকার সবচেয়ে বড় গুণ বলা হচ্ছে জাবুলানির যে অননুমেয়তা ছিল, সেটা কমিয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘ ও গভীর সেলাই ব্যবহার করে বলটিকে আরও সুদূর ও নিখুঁত গন্তব্যে পাঠানোর উপযোগী করা হয়েছে তাকে। এ ছাড়া ‘টু-ডি থার্মাল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রাজিলের ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রার পরিবেশের উপযোগী করা হয়েছে বলটিকে। পলিইউরেথেনের তৈরি ৬টি প্যানেল ব্যবহার করায় প্রবল বৃষ্টিতেও ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। অভিনব প্যানেল আকৃতির কারণে বলের গতি বেড়ে গেছে অনেক, ল্যাটেক্স ব্লাডারের কারণে ছুঁড়ে দেয়ার পর কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় উঠে আসছে। আর ব্রাজিল ও বিশ্বকাপ ট্রফির হরেক রঙে রাঙানো এই ব্রাজুকাকে বলা হচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণময় বল।
ব্রাজুকা বৃত্তান্ত
নির্মাতা: এডিডাস
নির্মাণ স্থান: শিয়ালকোট, পাকিস্তান
উদ্বোধন: ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩
নামকরণ: এডিডাস ভোটিং ব্যবস্থা
বিকল্প নাম: বোজা নোভা, কারনাভালেস্কা
ওজন: ৪৩৭ গ্রাম
পরিধি: ৬৯ সে.মি.
প্রতিক্ষেপন উচ্চতা: ১৪১ সে. মি.
পানি শোষণ: ০.২%
পরীক্ষার সময়: ২.৫ বছর
পরীক্ষায় অংশ নেন: ৬০০ খেলোয়াড়
সাক্ষাত্কার দিয়েছেন: ২৮৭ খেলোয়াড়
আকার: ৬ প্যানেল
