আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৩২
গোবরে পদ্ম ফুলের মতই দরিদ্র ও অনাহারী পরিবারের মেধাবীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শত প্রতিকূলতা হার মেনেছে তাদের মেধার কাছে। এসব শিক্ষার্থীদের দু’চোখ জুড়ে সোনালী সম্ভাবনার স্বপ্ন। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে তাদের অদম্যতা অব্যাহত রাখতে নানা চেষ্টা। বাস্তবতার সাংঘর্ষিক বৈষম্যে সুন্দর আগামীর সে স্বপ্নগুলো তাদের পরিবারের কাছে সর্ষের ফুলের মত। দেশের বিভিন্ন স্থানের এসব মেধাবী মুখের খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। পিতৃহারা বিশ্বজিত কুপির আলোয় পড়াশোনা করেছে তালা (সাতক্ষীরা) বাবা মারা গেছে প্রায় ১০ বছর আগে। বিধবা মা দু’মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো জমি নেই। একমাত্র পুত্র বিশ্বজিত মজুমদার শিশুবেলা থেকেই অদম্য মেধাবী। সে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাড়িতে বিদ্যুত্ না থাকায় কুপির আলোয় বই পড়তে হয়েছে। তবে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসী তাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন। মায়ের সাথে দিনমজুরির কাজ করে রানু উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংসার চালাতে মায়ের সাথে দিনমজুরি দিতে হয় রানুকে। পঞ্চম শ্রেণি পড়া অবস্থায় বাবা দুলু মিয়া মারা যান। মা আন্জুআরা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে যা পেত তা দিয়ে চলতো তাদের দু’বেলার খাবার। কিন্তু রানুর লেখাপড়ার খরচ চালানোর মতো কোনো সংগতি না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকেও নেমে যেতে হয় কাজের সন্ধানে। মা-ছেলে মিলে দিনভর কাজ করে বাড়ি ফিরে, রাতে কুপি জ্বালিয়ে পড়তে হয় তাকে। তার বাড়ি উপজেলার রাজারামক্ষেত্রী গ্রামে। এভাবেই নানা প্রতিকূলতা আর আর্থিক অনটনে দিনমজুরি দিয়েও রানু এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। দিনমজুর পিতার সাথে নিজেও কাজ করে রহিম মহেশপুর (ঝিনাইদহ) মহেশপুর উপজেলার সামন্তা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে আব্দুর রহিম। তার স্বপ্ন সে একজন প্রকৌশলী হবে। সে সামন্তা ষাট নল পাড়ার নজরুল ইসলাম ও রুপজান বেগমের ছেলে। দিনমজুর পিতার সাথে সে নিজেও কাজ করে পড়ালেখা চালায়। অন্যের জমিতে বসবাস করে হোসনে আরা আক্তার ডিমলা (নীলফামারী) নীলফা-মারীর ডিমলায় তিস্তা নদীতে ভিটেমাটি বিলীন হয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করে হোসনে আরা আক্তার দোহলপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া গ্রামের পাথর শ্রমিক আব্দুর রশিদের কন্যা। লেখাপড়ার জন্য নিজেও মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে শ্রম বিক্রি করে হোসনে আরা আক্তার।