না’গঞ্জে ৭ হত্যাকাণ্ড

তারেক-আরিফ ফের রিমান্ডে

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৩৮
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ ও মেজর (অব.) আরিফ হোসেনকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা হত্যা মামলায় আরো ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে ওই দুইজনকে শুক্রবার বিকালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালতে আনা হয়। প্রায় ১৫ মিনিট শুনানির পর বিচারক তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানির আগে আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশীদ মণ্ডল-এর পাঠানো আবেদনে বলা হয়, সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রতীয়মাণ যে, এই দুইজন সাবেক র্যাব কর্মকর্তা সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সম্পৃক্ত। আরো তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ জন্য তাদের আরো ৭ দিন করে রিমান্ডে নেয়া দরকার। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের এস আই আশরাফুজ্জামান বলেন, নূর হোসেনের টাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে র্যাব। এই দুইজন কর্মকর্তার সঙ্গে নূর হোসেনের ভালো সম্পর্ক ছিল। এজন্য আরো তথ্য জানতে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন। এসময় আদালতের এপিপি ফজলুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ অন্তত ২৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হত্যা মামলায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২২ মে দ্বিতীয় দফায় ৮ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ১৬ মে রাতে ঢাকা সেনানিবাস থেকে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৭ মে প্রথম দফায় তাদের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহূত হন। গত ৩০ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। নজরুল ইসলামের শ্বশুর অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র্যাবকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন।