অভাব-দারিদ্র্য আর শত বাধা-বিপত্তিতেও দমাতে পারেনি এসব মেধাবী শিক্ষার্থীকে। নিজের ইচ্ছাশক্তিতে সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে তারা। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
পঞ্চগড়ের জাহাঙ্গীর দিনমজুরি করে খরচ চালায়
সদর উপজেলার গোফাপাড়া গ্রামের দরিদ্র রিকশা-ভ্যানচালক আইবুল হকের ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর। শত বাধা পেরিয়ে এবার সে পেয়েছে জিপিএ-৫। অভাব তার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বাবা লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে চাইলেও মানুষের বাড়িতে কাজ করে আর বাবার রিকশা-ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে সে পড়ালেখা করেছে। পঞ্চগড় জেলা সদরের মাঘই পানিমাছ পুকুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। তার লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার জন্য তিনি দানশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কয়রার আশুরার জিপিএ-৫ অর্জন
শত অভাব সত্ত্বেও দরিদ্রতার কাছে হার মানেনি আশুরা খাতুন। এবারে উপজেলার বড়বাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার এ ফলাফল গোটা এলাকার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আশুরার মা আকলিমা খাতুন জানান, দুই মেয়ে এক ছেলে নিয়ে ছোট্ট একটি মাটির ঘরে তাদের বসবাস। যেখানে নেই বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন আশুরা ও তার মা ছিল পরের বাড়িতে ঝি-এর কাজে, আর বাবা ভ্যান চালানোর কাজে ব্যস্ত ছিল। মেয়েকে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে শহরের ভালো কলেজে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা থাকলেও পারবে কিনা সেই ভাবনায় চিন্তিত তার পিতা ।
চলনবিলের রুনার উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত
কপর্দকশূন্য পিতৃহারা রুনা খালার বাড়িতে থেকে তাড়াশ জে.আই টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রুনার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম সীমান্তের আলীয়ারপুর গ্রামে। পিতা তাঁত শ্রমিক রহমতউল্লাহ হার্টের অসুস্থতায় ৫ বছর আগে মারা যান। গোল্ডেন এ-প্লাস পাবার পর রুনা চোখে অন্ধকার দেখছে। তার ইচ্ছা নার্সিং কোর্স সমাপ্ত করে মানুষের সেবা করা এবং মায়ের খরচ চালান।
মির্জাপুরের রাকিবের ভর্তি অনিশ্চিত
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থাভাবে মৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মেধাবী ছাত্র রাকিব উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজে ভর্তি হতে পারছে না। বিধবা মাকে নিয়ে ভাল একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় রাকিব। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা রাকিবের । কিন্তু উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মত টাকা কোথায় তাদের।
সিংড়ার মনিরা ডাক্তার হতে চায়
অভাবকে দূরে ঠেলে দিয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের ভাঙ্গা ঘরে আশার আলো জ্বালিয়েছে অদম্য মেধাবী ছাত্রী মনিরা খাতুন। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মনিরা কলম উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মনিরা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আব্দুল ওহাবের মেয়ে। এর আগে মনিরা পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে মেধাতালিকায় বৃত্তি পেয়েছিল। তার ইচ্ছা পড়ালেখা শেষ করে ডাক্তার হয়ে গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের সেবা করা।
