সুনামগঞ্জের বালু-পাথর মহাল ধোপাজানে নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে গত ২৪ মে থেকে ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। ইতিপূর্বে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও হয়রানি এবং শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত বৃহস্পতিবার শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট বালু ১৫ পয়সা ও প্রতি ঘনফুট পাথর ৫০ পয়সা টোল আদায়ের কথা। কিন্তু ইজারাদার তোফাজ্জল হোসেন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রতি ঘনফুট বালু এক টাকা ও প্রতি ঘনফুট পাথর দেড় টাকা হারে টোল আদায় করছেন। এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন। সমপ্রতি অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে ধোপাজান বালু-পাথর মহালের তিনটি ব্যবসায়ী সমিতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানায়।
ইজারাদার তোফাজ্জল হোসেন ব্যবসায়ীদের হয়রানির কথা অস্বীকার করে বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ মোতাবেক প্রতি ঘনফুট বালু দেড় টাকা নেয়ার পরিবর্তে আমরা এক টাকা নিচ্ছি। পাথরের ওপর সরকার নির্ধারিত কোনো হার দেয়া হয়নি।
বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মনির উদ্দিন বলেন, ইজারাদার ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সুরমা বালু পাথর সমিতির সভাপতি দেওয়ান গিনউস সালাদীন বলেন, ইজারাদার প্রতিদিন অবৈধভাবে প্রায় তিন লাখ টাকা আদায় করছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাফায়েত মাহবুব চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জানান, ধোপাজান বালু-পাথর মহালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ওপর কোনো প্রকার জুলুম-নির্যাতন সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে এ নিয়ে সংসদেও কথা বলা হবে।
