অবসরে যাচ্ছে বিশ্বকাপও!

আপডেট : ৩১ মে ২০১৪, ২২:৩৫
অবসরে যাওয়া কিংবা বুট তুলে রাখার ব্যাপারটা আমরা কেবল খেলোয়াড়দের ব্যাপারেই শুনে অভ্যস্ত। তবে ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে ২০৩০ আসরের পর ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটাও যদি অবসরে চলে যায় তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না। সমপ্রতি একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চমকে দেয়া তথ্য। বিজয়ের স্মারক হিসাবে বিশ্বকাপ ট্রফি বিজয়ী দেশের অধিনায়কের হাতে তুলে দেয়ার রীতি চলে আসছে ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর থেকেই। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ট্রফিই ঘুরে ফিরে উঠেছে বিশ্বকাপ বিজয়ীদের হাতে। পেলের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ’৭০ আসরের ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে অমরত্বের পাশাপাশি চিরতরে জিতে নেয় প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফিটিও। কারণ তখন ফিফার নিয়ম ছিল কোন দেশ যদি তিনবার শিরোপা জিততে পারে তাহলে জুলে রিমে নামে পরিচিত এই ট্রফি স্থায়ীভাবে তুলে দেয়া হবে তাদের হাতে। ফলে ১৯৭৪ সাল থেকে নতুন ট্রফির প্রচলন করতে বাধ্য হয় ফিফা। নতুন ট্রফির পাশাপাশি তারা চালু করে নতুন একটা নিয়মও। যতবারই জিতুক না কেন, কোন দলই স্থায়ীভাবে পাবে না এই ট্রফি। বিশ্বকাপ জয়ী প্রতিটি দলকেই দেয়া হয় মূল ট্রফিটার একটা রেপ্লিকা। আর মূল ট্রফিতে লিখে রাখা হয় সন আর বিজয়ী দেশের নাম। ট্রফির অবসরের প্রশ্নও চলে আসে এখানেই। ইতালিয়ান ডিজাইনার সিলভিও গাজানিগার নকশা অনুসরণে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি এই ট্রফির নিচের অংশ তৈরি করা হয়েছে সবুজ রংয়ের মূল্যবান পাথর দিয়ে। প্রায় ১৩ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের দ্বিস্তর বিশিষ্ট এই পাথরের ভিত্তিই ধরে রাখে ছয় কেজি ভরের এই ট্রফিকে। আর ঐ পাথরের তলায় খোদাই করে রাখা হয় প্রতিটি শিরোপাজয়ী দেশের নাম। তবে ১৯৭৪ সালে চ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানির পর গত চল্লিশ বছরে সেখানে লেখা হয়েছে আরও দশবার লেখা হয়েছে নতুন বিজয়ী আর সালের নাম। ফিফার একটি সূত্র বলছে, সেখানে আর মাত্র চারটি দেশ এবং সালের নাম লেখার সুযোগ আছে! ফলে বিশ্বকাপের ২০৩০ আসরের পর অবসরে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে এই ট্রফিটাকেও। যদিও এ বিষয়ে ফিফা কি ভাবছে সেটা এখনও জানা যায়নি।