দেশের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সেই হারের পর পেরিয়ে গেছে ৬৪ বছর। সেবার না পারলেও পরে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল ইতিহাসের সফলতম দল হিসাবে নিজেদের প্রমাণ করেছে ব্রাজিলিয়ানরা। তবে এত সাফল্যও মারাকানার সেই হারের ক্ষতে প্রলেপ বুলাতে পারেনি। ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুর বিশ্বাস স্বাগতিক দর্শকদের সামনে একটি শিরোপাই কেবল ভোলাতে পারে মারাকানার সেই ক্ষত। তাই মারাকানার স্মৃতিকে কবর দেয়ার জন্য হলেও উত্তরসুরীদের শিরোপা জেতার তাগিদ দিয়েছেন কাফু।
পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলা ব্রাজিল মারাকানার সেই ফাইনালেও ছিল ফেভারিটই। প্রিয় তারকাদের বিজয়োল্লাস দেখতে স্টেডিয়ামে সেদিন ভিড় করে দুই লাখেরও বেশি মানুষ। ফ্রিয়াকার গোলে এগিয়েও যায় ব্রাজিল। তবে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় উরুগুয়ে। এই ঘটনার পর গত পনেরটি বিশ্বকাপের প্রতিবারই ঘুরে-ফিরে এসেছে মারাকানার সেই স্মৃতি। তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র-তথ্যচিত্র, সেই ম্যাচের স্মৃতি নিয়ে হয়েছে চিত্র প্রদর্শনীও। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজেদের ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে এবার ব্রাজিলিয়ানরা যেসব ব্যঙ্গচিত্র বা ছবি একেছেন, সেখানেও স্থান পেয়েছে মারাকানার কান্নাভেজা সব ছবি। মার্কোস ইভানগেলিস্তা ডি মোরায়েস নামে জন্ম হলেও কাফু নামেই বিশ্ব মাতানো ব্রাজিলের সাবেক এই অধিনায়কের মতে দেশের মাটিতে একটি বিশ্বকাপই কেবল চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে মারাকানার সেই দু:খ গাঁথাকে। তাড়াতে পারে ‘মারাকানাজো’ ভূতকে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে কাফু বলেন, ‘আমরা যদি এই বিশ্বকাপটা জিততে না পারি তাহলে ১৯৫০ এর স্মৃতি ভর করবে ২০১৪’র উপর। যেটা কিনা এখানে আরেকটি বিশ্বকাপ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের তাড়া করে যাবে।’
ব্রাজিলের ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কাফু খেলেন ১৯৯৮ আসরের ফাইনালেও। স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের দু:খ ঘোচান কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা কাফুর ধারণা স্বাগতিক হওয়াটা মোটেই বাড়তি চাপ হয়ে আসবে না ব্রাজিলের জন্য। ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো সাবেক এই এসি মিলান তারকা বলেন, ‘ব্রাজিলকে সব সময়ই যে কোন টুর্নামেন্টেই ফেভারিট হিসাবেই ধরা হয়। আমার মনে হয় না দেশের মাটিতে খেলা কিংবা সমর্থকদের চাপ বড় কোন বিষয়। ব্রাজিলের জন্য জেতাটা সব সময়ের কর্তব্য। এখানে স্বাগতিক হওয়া বা না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।’
নিজের এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তিও তুলে ধরেছেন এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের দূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করা কাফু। ১৪২ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তারকা বলেন, ‘তারা যখন খেলে তখন এমনিতেই তাদের মাথার উপর প্রচুর চাপ থাকে। সুতরাং এখানে নতুন করে কিছু হবার সুযোগ কোথায়! এমন একটি দল যারা পাঁচবার শিরোপা জিতেছে তাদের জন্য এটা মোটেই বিরল কিছু নয়। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, একমাত্র চাপ হয়ে দাঁড়াতে হবে ১৯৫০ বিশ্বকাপের সেই ফাইনাল।’
ব্রাজিলের শিরোপা জেতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন দেশের তালিকায় কাফু উল্লেখ করেছেন বেশ কয়েকটি নাম। যদিও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কোন দলকেই একক ফেভারিট হিসাবে ঘোষণা করা যায় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দলেরই ক্ষমতা আছে সমস্যা সৃষ্টি করার। সবাই আমাদের প্রতিপক্ষ। তবে যারা এর আগে শিরোপা জিতেছে তাদের দিকে বাড়তি নজর দিতেই হবে আপনাকে। ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, স্পেন এবং ইতালি নিশ্চিতভাবেই তারা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।’ এএফপি।
