৩৪১ কোটি টাকা আত্মসাতে ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২৩:০৬
সোনালী ব্যাংক থেকে ৩৪১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ১৪টি মামলায় ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে হলমার্ক ঋণ জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মোট ২৪ মামলার চার্জশিট অনুমোদন দিল কমিশন। এর আগে গত ৬ মে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলার চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছিল কমিশন। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি তদন্ত টিম প্রায় এক বছর তদন্ত করে এ সব মামলার চার্জশিট তৈরি করেন। গতকাল অনুমোদন দেয়া ১৪ মামলার এ চার্জশিটে সোনালী ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা ও টি এন্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডের এক পরিচালক রয়েছেন। তারা হলেন সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবীর, প্রাক্তন ডিএমডি মাঈনুল হক (ওএসডি), ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন, মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ, এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত) ও এজাজ আহম্মদ। জিএম অফিসের জিএম ননী গোপাল নাথ (ওএসডি), মীর মহিদুর রহমান। রূপসি বাংলা (সাবেক হোটেল শেরাটন) শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক (পরে ডিজিএম) একেএম আজিজুর রহমান (হলমার্কের মামলায় কারাগারে), এজিএম (সাময়িক বরখাস্ত) মো. সাইফুল হাসান, নির্বাহী কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) মোহাম্মদ আবদুল মতিন এবং টি এন্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডের পরিচালক মো. তসলিম হাসান। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জিনাত ফাতেমা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহীদ হোসেন ১৪ মামলায় আসামি হিসেবে থাকলেও চার্জশিটে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। অন্যদিকে নকশী নিট কম্পোজিট লিমিটেড ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের তিন মামলায় সুদসহ মোট ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৬১ টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করায় তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। এ ১৪ মামলা থেকে যারা অব্যাহতি পেলেন তারা হলেন নকশী নিট কম্পোজিট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোছা. আমেনা বেগম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মালেক, নকশীর ভুয়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম পেপার্স এন্ড এক্সেসরিজের স্বত্বাধিকারী মো. জমির হোসেন ও সনাক্তকারী হলমার্ক গ্রুপের জিএম তুষার আহমেদ। দুদক সূত্র জানায়, ফান্ডেড প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ২৭টি মামলা দায়ের করে দুদক। পরবর্তীতে তদন্ত পর্যায়ে আত্মসাত্কৃত অর্থ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭২ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৪১৭ টাকা হয়। যার মধ্যে ১৭ মামলায় ৩৫৪ কোটি ৫৫ লাখ ৮ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং ১০ মামলায় ১৮ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ৪৫৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।