কাজের প্রতি ভালোবাসা, ভালোলাগা আর সাধনা থাকলে যেকোনো কাজই এক সময় শিল্পে পরিণত হয়। ফ্রেমে ফ্রেমে ছবি বাঁধাই করা যেন শিল্পিত মনেরই যেন পরিচয়। আর সেই পরিচয়টিই দিচ্ছেন রাজধানীর গাউসুল আজম সুপার মার্কেটে অবস্থিত জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘরের কর্ণধার জাহাঙ্গীর। বাবাকে হারিয়ে লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন হয়ে ফ্রেমের সঙ্গেই একসময় জীবনকে বেঁধে নেন এই শিল্পীমনা মানুষটি। একটু একটু করে নিজের প্রতিষ্ঠানকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছেন যে প্রতিষ্ঠানটির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে আজ দেশ থেকে দেশের বাইরেও। খুব সহজে বলতে গেলে গুগলে সার্চ করলেও ‘জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর’ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় যা একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে ভীষণ যৌক্তিক। আজকের এই অবস্থান নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট আপনি? জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ছোট্ট এই জীবনে এত বড় হবার মতো স্বপ্ন দেখিনি আমি কখনোই। তবে যে কাজই আমি করেছি জীবনে তাতে সত্ থাকার চেষ্টা করেছি, তা নিয়ে সাধনা করেছি, শ্রম দিয়েছি। হয়তো এ কারণেই ফ্রেম শিল্প আজ আমার জীবনে এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। নানা সময়ে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যারা আমাকে কাজ দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতিই আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’ মামা ইদ্রিসের কাছেই ফ্রেম সম্পর্কে জাহাঙ্গীর ধারণা লাভ করেন। ২০০৩ সাল পর্যন্ত মামার সঙ্গেই কাজ করেন জাহাঙ্গীর। ২০০৩ সালের মে মাস থেকে ‘ভাই ভাই ফ্রেম ঘর’ নামে জাহাঙ্গীরের প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হলেও পরে নিজের নামেই প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্য শুরু হয়। শিল্পীর আঁকা ছবিকে আরও শৈল্পিক রূপ দেওয়াই যেন জাহাঙ্গীরের কাজ। বিগত দশ বছর যাবত তিনি কাজ করে যাচ্ছেন গ্লোবালাইজিং ওয়ার্ল্ড, ছবি মেলা, চারুকলা ইনস্টিটিউট, বেগ আর্ট, ম্যাপ, পাঠশালা, ইউনিসেফ, আমেরিকান দূতাবাস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন আলোকচিত্রশিল্পীসহ বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। চলতি মাসেই জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা’। বিদেশি ফ্রেমের চেয়ে দেশি ফ্রেমেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ দেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রশিল্পী চঞ্চল মাহমুদের কাছে, কারণ তিনিই জাহাঙ্গীরকে প্রথম বড় কোনো কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। কেউ কাউকে কোনোরকম আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য কোনো প্রদর্শনীর আয়োজন করার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর নিজের উদ্যোগেই তাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
