রাজনৈতিক দল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ নিষিদ্ধের বিধান রেখে ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন-২০১৪’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, যারা বৈদেশিক অনুদান নেবে তাদের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন না নিয়ে বৈদেশিক অনুদানে কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা যাবে না। তবে ব্যক্তি হিসেবে পিএইচডি, গবেষণা ইত্যাদির জন্য বৈদেশিক অনুদান নিতে হলে নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন নিতে হবে। অর্থপ্রাপ্তির উত্স এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তা উল্লেখ করতে হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন নিতে পারবে। তবে আইন অমান্য করলে যে কোনো সময় তাদের নিবন্ধন বাতিল করা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ আইন বাস্তবায়িত হলে এনজিওগুলোর বৈদেশিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরো গতিশীলতা আসবে। তিনি বলেন, সামরিক শাসনামলে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর (এনজিও) কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালে দু’টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই অধ্যাদেশ দু’টি একত্রিত করে আইনটি বাংলায় করা হচ্ছে। অবশ্য এনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অধ্যাদেশ দু’টি সম্মিলনের কাজ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। মোশাররাফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তখন অধ্যাদেশ দু’টি বেশ সংক্ষিপ্ত ছিল, এখন বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনটি হালনাগাদ করা হচ্ছে। এতে ২২টি ধারা আছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোন এনজিও বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিতে হবে। এছাড়া বিদেশি অর্থ মাদার একাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। প্রতিটি এনজিওকে নিয়মিত তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন এনজিও ব্যুরোতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইন লঙ্ঘন করলে শাস্তি হিসেবে সতর্ক করা হবে। নিবন্ধন বাতিল ও জরিমানাও করা হতে পারে। শাস্তির ধরন আইন লঙ্ঘনের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। তবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন সন্ত্রাসী কার্যক্রম, জঙ্গিবাদে সহায়তা, শিশুপাচার ও মাদক সংক্রান্ত কাজের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে বিচারের বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়। তিনি বলেন, এ আইনটি বাংলায় প্রবর্তনের পরে হুবহু এর ইংরেজি ভার্সন করা হবে।
মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, ১৯৯০ সালে এনজিও ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্যুরোর সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৩০৩। এরমধ্যে দেশীয় এনজিও রয়েছে ২ হাজার ৭০টি, আর বিদেশি এনজিও ২৩৩টি।
জাতীয় বীমা নীতি-২০১৪-এর অনুমোদন
এদিকে মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় বীমা নীতি-২০১৪’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘জাতীয় বীমা নীতি-২০১৪’ কোন আইন নয়, এটি বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি গাইড লাইন। তিনি বলেন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি অতিক্রম বা হ্রাসের ক্ষেত্রে বীমা একটি বড় মাধ্যম। তাই সরকার এ ক্ষেত্রটির আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে এ নীতির খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতে পেনশন স্কিম চালু করা হবে। এ আইনে অ্যাকশন প্ল্যানের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা হবে। বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি, প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ বীমা, বীমার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় বীমা দিবস চালুর বিধান খসড়া আইনে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পারস্পরিক সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন আগামী ১৬ থেকে ১৮ জুন বাংলাদেশ সফর করবেন। এ সময় চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির মেয়াদ হবে ১০ বছর। কোনো পক্ষ আপত্তি না করলে এটা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া ২৫ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল জাপান সফর, ২৯ এপ্রিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইউএনসিএডি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মসূচিতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অংশগ্রহণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর, গত ১১ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফ’র সিপ্রং মিটিং ও ১৫ থেকে ১৬ এপ্রিল মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল পার্টনারশীপ ফর ইভেকটিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (জিপিইডিসি)’ শীর্ষক প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।
