থাইল্যান্ডের জান্তা সরকার বিক্ষোভকারীদের প্রতি আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জান্তাপ্রধান প্রায়ুথ চ্যান-ওচা বলেছেন বিক্ষোভকারীদের প্রতি যথেষ্ঠ নমনীয়তা দেখানো হয়েছে। কিন্তু অনেকে সেনাবাহিনীর আহ্বান উপেক্ষা করে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। যারা সেনাবাহিনীর নির্দেশ না মেনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে তাদের সামরিক আইন লংঘনের অভিযোগে বিচার করা হবে। কাউকে আর ক্ষমা করা হবে না।
সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাংককে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে জান্তা সরকার। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা যেনো জড়ো হতে না পারে সেজন্য অনেকগুলি রেল স্টেশনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অনেক শপিংমলও। স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্ব- এই তিন দাবিতে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ‘গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের কাছে এক রাজনৈতিক দলের বিকল্প আরেক রাজনৈতিক দল। সেনাবাহিনী নয়। যারা ইংলাকের সরকারের বিরোধীতা করে রাজপথে নেমেছিল তারা অবশ্যই সেনা সরকারের আগমনে খুশি হতে পারেন না। কারণ কয়েকদিন পরেই তারা বুঝতে পারবেন স্বাধীনতা হারানোর বেদনা অপছন্দের রাজনৈতিক সরকারের চেয়েও খারাপ। অপছন্দের সরকারে অধীনে স্বাধীনভাবে কাজ করার কিংবা কথা বলার স্বাধীনতা খর্ব হয় না। কিন্তু সেনা সরকারের অধীনে তা হয়। সব সময় মনে শুধু ভয় কাজ করে।’
কিন্তু জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়, নির্বাচন দেয়া নয়, তাদের অগ্রাধিকার অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটানো। তাই জরুরি ভিত্তিতে কিছু অর্থনৈতিক এজেন্ডা তৈরী করা হয়েছে। জান্তার দাবি, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে গত কয়েক মাসে চলমান বিক্ষোভে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই ক্ষতি কাটাতে গেলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। একারণে বিক্ষোভের মতো কর্মসূচি সহ্য করা হবে না।
