দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে। ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে। ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
জানাচ্ছেন— খান সাইদুর রহমান ও জোবায়ের মুস্তাফিজ
প্রিয় শিক্ষক
আমার জীবনে আমি অনেক শিক্ষকদেরই সাহচর্য পেয়েছি। তাদের মধ্যে সবাই আমাকে কোন না কোন ভাবে সহায়তা করেছেন তবে তাদের মধ্যে দু’জন আমার মনে খুব দাগ কেটেছেন। একজন হলেন আমার দাদা আতস আলী সিদ্দিকী। আমার দাদা ছিলেন আমার প্রথম শিক্ষক। তার হাতেই আমার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। আরেকজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আবু ইমাম মোহাম্মদ নুরুদ্দীন। স্যার সবসময় একটা কথা বলতেন, যে কারো উপকার করতে না পার সমস্যা নেই কিন্তু কারো ক্ষতি কখনো করো না। স্যারের সেই কথাটা এখনো আমার কানে বাজে।
স্কুল জীবনের স্মৃতি
আমরা ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় বড় হয়েছি। গ্রামে যাওয়ার সুযোগ খুব একটা হয়নি। আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি তখন আমার বাবা সিরাজগঞ্জ বদলি হয়ে গেলেন। আমার মনে পড়ে তখন সিরাজগঞ্জে খুব বন্যা হচ্ছিল। প্রতিদিন আমাকে সেই বন্যার পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হতো। শহর থেকে গিয়ে এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমার একেবারেই নতুন। স্কুল জীবনের অনেক কিছুই ভুলে গেছি তবুও এই স্মৃতিটা এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণীয় ঘটনা
১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট। ক্লাস শেষ করে যখন বাসায় ফিরছি তখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে সাজ সাজ রব। পরদিন ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু আসবেন ক্যাম্পাসে। আব্দুল মতিন চৌধুরী নিজ হাতে তার তদারকি করছেন। পরদিন বঙ্গবন্ধু আসবেন এই উত্তেজনা নিয়েই বাসায় ফিরে গেলাম। কিন্তু পরদিন খুব সকালেই খবর পেলাম যে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বঙ্গবন্ধুর এই হত্যাকাণ্ডই ছিল আমার সবচেয়ে স্মরণীয় তবে দুঃখজনক ঘটনা।
ছাত্রাবস্থার সেই দিনগুলি
অনেক বেশি মিস করি। ছাত্রজীবন সোনালী জীবন। কিন্তু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবন। ভর্তি হবার পর শুধু শেষ করার তাড়া থাকে কিন্তু একবার শেষ হয়ে গেলে এর আসল মর্ম বোঝা যায়। আমাকে যদি আরেকবার সুযোগ দেয়া হয় যে কোন সময়টায় ফিরে যেতে চান আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমি আমার ছাত্রজীবনে ফিরে যেতে চাই
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে
একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে তখন তাকে জানতে হবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার উদ্দেশ্যটা কী? উদ্দেশ্যটা হলো সত্যের অন্বেষণ করা, সত্যকে খুঁজে বের করা এবং তা বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা। এই মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে এগিয়ে গেলেই তাদের সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে।
