প্রতিবছর বিশ্বে যে কয়েকটি প্রযুক্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তার মধ্যে কোড কনফারেন্স অন্যতম। এ বছরেও অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই আয়োজন। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এবারের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে শীর্ষস্থানীয় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তাদের নানা ধরনের ঘোষণায় এই কোড কনফারেন্স প্রযুক্তিবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এবারের এই কোড কনফারেন্সের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন মোজাহেদুল ইসলাম
ফিরছে ‘উইন্টেল’
বিশ্বব্যাপী পিসি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ এবং চিপ নির্মাতা জায়ান্ট ইন্টেলের একযোগে কাজ করার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে একত্রে ‘উইন্টেল’ বলে থাকেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে পিসি বিক্রি হ্রাস পাওয়া এবং স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের বাজার বেড়ে যাওয়ায় উইন্ডোজের সাথে ইন্টেলের এই সুসম্পর্ক অনেকটাই কমে গেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই মোবাইল ডিভাইসের দিকে ঝুঁকে পড়েছে অনেকটা। তবে কোড কনফারেন্সে উভয় প্রতিষ্ঠানের সিইও উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, উইন্টেলের চিরচেনা রূপ আবার ফিরে আসবে। সারফেসের নতুন সংস্করণকে মাইক্রোসফট যেভাবে ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবে তৈরি করেছে, তাতেও ব্যবহূত হয়েছে ইন্টেল প্রসেসর। সামনের দিনগুলোতে উইন্ডোজ এবং ইন্টেলের সমন্বয়ে তৈরি আরও চমত্কার কিছু ডিভাইসের ইশারা দিয়েছেন এই দুই প্রধান।
গুগলের নিজস্ব চালকবিহীন গাড়ি
চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে গুগল কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রায় বছরখানেক হলো গুগল এমন গাড়ি পরীক্ষামূলকভাবে নামিয়েছে রাস্তায়। তবে গাড়িতে ব্যবহূত প্রযুক্তি গুগলের হলেও গাড়িগুলো গুগলের নিজের তৈরি ছিল না। এবারে গুগল নিজেই এমন গাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুগলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন গুগলের এই গাড়ির কথা জানা কোড কনফারেন্সে। চমকিত করার মতো খবর হলো, গুগলের তৈরি এই গাড়িতে প্রচলিত গাড়ির মতো থাকবে না কোনো ধরনের স্টিয়ারিং হুইল, ব্রেক বা পেডেল। গাড়ি চালানোর জন্য এতে কেবল থাকবে একটি স্টপ/গো বাটন, যার মাধ্যমে গাড়ি চালানো শুরু এবং বন্ধ করা যাবে। চালকের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই গাড়ি নিজের মতো করেই যাত্রীকে পৌঁছে দেবে গন্তব্যে। গুগলের পরিকল্পনাধীন এই গাড়িগুলো আকারে বেশ ছোট। এর ডিজাইনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। প্রচলিত গাড়িগুলোর চেয়ে একটু ভিন্ন ডিজাইনের এই গাড়িগুলো অনেকটা কার্টুন বা অ্যানিমেশন ছবিতে দেখা গাড়ির মতো। দুই জনের ব্যবহারের উপযোগী এই গাড়ির সামনের দিকে থাকবে থাকবে না বনেট কিংবা বাম্পার। বরং সামনের দিকটায় ব্যবহার করা হবে ফোমের মতো নরম বস্তু এবং সামনের গ্লাসটিও হবে নমনীয়। ফলে এর সাথে হালকা সংঘর্ষেও কোনো ধরনের আঘাত পাবে না পথচারী। এই গাড়ি চালনার জন্য এতে থাকছে রাডার এবং লেজার সিগন্যালের সমন্বয়। তার সাথে ক্যামেরা ব্যবহার তো থাকছেই। গুগলের রোড ম্যাপের ওপরেই মূলত নির্ভর করবে এই গাড়ি।
স্কাইপে রিয়েল-টাইম অনুবাদক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে অনেক প্রতিষ্ঠানই। এবারে মাইক্রোসফটও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি প্রযুক্তির কথা জানিয়েছে। বছরখানেক আগেই অবশ্য তারা এমন একটি প্রযুক্তির কথা জানিয়েছিল যা রিয়েল-টাইমে এক ভাষার টেক্সট অন্য ভাষায় রূপান্তর করতে পারে। এই প্রযুক্তিই মূলত চূড়ান্ত করে এনেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির সিইও সত্য নাদেল্লা জানিয়েছেন, স্কাইপে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে এই প্রযুক্তি। আর তাতে করে কেবল টেক্সট নয়, অডিও এবং ডিডিও মাধ্যমেও রিয়েল-টাইমে এই অনুবাদের কাজ করা সম্ভব হবে। মানুষের মস্তিষ্কে ঠিক যে ধরনের গাঠনিক কাঠামো রয়েছে, তেমন নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কাজ করবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তি। ফলে এর নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন নেই।
