অভাব দরিদ্রতা আর প্রতিবন্ধিতা হার মানাতে পারেনি চট্টগ্রামের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী রায়হান আলম নিহন ও মাগুরার মহম্মদপুরের কাজল ভৌমিককে। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
সহায়তা চান বাক
প্রতিবন্ধী আবদুল্লাহ
চট্টগ্রামের বাক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ চৌধুরী নগরীর লামাবাজার এএএস সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। জন্মের পর থেকে সে বধির ও বাক প্রতিবন্ধী। স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে অনেক টাকার প্রয়োজন বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। কিন্তু দরিদ্র পিতার পক্ষে চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে উচ্চশিক্ষা লাভে আগ্রহী। সে তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সমাজের বিত্তশালীদের আর্থিক সাহায্য কামনা করেছেন।
প্রতিবন্ধিতা রুখতে
পারেনি নিহনকে
শারীরিক অক্ষমতা দমাতে পারেনি মুন্সীগঞ্জের রায়হান আলম নিহনকে। প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে নিহন ছুঁয়েছে সাফল্যের সূর্য। জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নিহন লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একই উপজেলার দক্ষিণ মেদেনী মণ্ডল (মাওয়া) গ্রামের আবুল হাসান ও রেহেনা হাসান রহিমার প্রথম পুত্র রায়হান আলম নিহন। মা রেহেনা হাসান জানান, ছেলেকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে জানতে পারলাম ঢাকার ধানমন্ডিতে হাই কেয়ার স্কুলের কথা। সেখানে ওকে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করাই। ওই মূক ও বধিরদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই আমার ছেলে অক্ষরজ্ঞান লাভ করে এবং ধীরে ধীরে লিখতে ও পড়তে শেখে। নিজের সাফল্যে খুশি নিহন। ভবিষ্যতেও পড়াশোনা করে ‘মানুষ’ হবার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে সে।
এক পায়েই আকাশ
ছুঁতে চায় কাজল
এক পায়ে ক্র্যাচে ভর করে বিদ্যালয়ে যেত মাগুরার মহম্মদপুরের কাজল ভৌমিক। গাড়ি ভাড়ার পয়সা নেই, তাই হেঁটেই চলতে হয় তাকে। কিন্তু একটি পা না থাকলেও মনের জোর ছিল ষোলআনা। কাজল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। মহম্মদপুরের সরাবাড়িয়া গ্রাম থেকে প্রতিদিন আসা-যাওয়া মিলে ৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো তার।
বাবা কার্ত্তিক ভৌমিক অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করেন। মা কমলা রানী এক বেলা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে কাজল ছোট। কাজল জানায়, বাইরের ভালো কলেজে পড়তে চায় সে। কিন্তু সে সামর্থ্য তার বাবার নেই। কাজল ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আদৌ সফল হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে কাজল। কাজলের বাবা কার্ত্তিক ভৌমিক ছেলের স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।
