বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট। গুণে ও মানে আমাদের পাট বিশ্বসেরা। আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সংগে মিশে আছে পরিবেশবান্ধব পাটের কাহিনী। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন বাংলাদেশের সিংহভাগ বৈদেশিক আয় অর্জিত হতো পাট খাতের মাধ্যমে। এখনও আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বিভিন্নভাবে পাট খাতের ওপর নির্ভরশীল। মানুষের সৃষ্টি কয়েকটি কৃত্রিম কারণে বর্তমানে পাটের গুরুত্ব কিছুটা কমতির দিকে। পাটের হারানো গৌরব, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান সরকার বেশ কিছু বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী, যুগান্তকারী ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এবং পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক বিধিমালা-২০১৩’ প্রণয়ন যা ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। এ আইনের আওতায় ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার এই ছয়টি শুধু পাটের বস্তাতেই রাখা যাবে। সংশ্লিষ্ট আইন ভঙ্গকারী অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সবরকম চালকল মালিক ও চাতাল মালিকসহ সংশ্লিষ্ট ছয়টি পণ্য ব্যবসায়ীদের এ আইনটি পুরোপুরি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি। সরকারি আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আইনটি বাস্তবায়নের ফলে পাটের ব্যবহার, গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সোনালি আঁশ পাট তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
জাতীয় স্বার্থে দেশের কল্যাণে সমাজের উপকারে এবং পরিবেশের প্রয়োজনে উল্লিখিত সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি নাগরিক স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সাধ্যমত অবদান রাখুন এবং সহযোগিতা করুন।
মো. সোহরাবউদ্দিন বিশ্বাস,
পরিদর্শক (পাট),
পাট অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া
