ঈদের ছুটিতে সুন্দরবন

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ১৯:৫৫

লেখা ও ছবি মুস্তাফিজ মামুন

 

ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের চমত্কার একটি জায়গা সুন্দরবন। এখন বর্ষা। এ সময়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্যও অবর্ণনীয়। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থা বেঙ্গল ট্যুরস একটি বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে। তিন দিন তিন রাতের এ ভ্রমণে দেখে আসতে পারেন বর্ষায় বাংলাদেশের সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য।

প্রায় ছয় হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি আয়তনের বাংলাদেশ সুন্দরবনের। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল উপকূলীয় এলাকাজুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান। ‘পূর্ব’ ও ‘পশ্চিম’ দুটি বিভাগের অধীনে চারটি প্রশাসনিক রেঞ্জে ভাগ করা হয়েছে সুন্দরবনকে। রেঞ্জগুলো হলো চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনা ও সাতক্ষীরা। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়। ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য এটি। সুন্দরবনের প্রধান প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর চিত্রা হরিণ। এছাড়া মায়া হরিণ, বন্য শুকর, বানর, গুঁই শাপ, ভোদর, ডলফিন, নোনাপানির কুমির, কিং কোবরা, অজগর ইত্যাদি নানান বন্যপ্রাণীর বসবাস আছে সুন্দরবনে।  

 

 

সুন্দরবনে প্রায় ৩৩০ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুন্দরী, কেওড়া, পশুর, ধুন্দল, আমুর, গরান, গর্জন, খোলশী, বলা, হেতাল, গোলপাতা, টাইগার ফার্ন, হারগোজা ইত্যাদি। 

স্থানীয় ও পরিযায়ী মিলে সুন্দরবনে প্রায় ২৭০ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এরমধ্যে বড় সাদা বক, সি ঈগল, বাজ, মাস্ক ফিঙ্কফুট, বিভিন্ন প্রজাতির মাছরাঙ্গা, ফিঙ্গে, সুঁই চোরা, কাঠঠোকরা, বন মোরগ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রায় চারশ রকম মাছ পাওয়া যায় সুন্দরবন এলাকায়। সুন্দরবনের সুন্দরতম একটি জায়গা কটকা খাল। এখানে পর্যটক লঞ্চ নোঙ্গর করে। খালের পশ্চিম পাড়ের জেটি পেরিয়ে উপরে উঠলেই বন কার্যালয়। এর সামনে দিয়ে সোজা পশ্চিমমুখী ইট বাঁধানো পথটি কিছু দূর চলার পরে শেষ। কটকা বন কার্যালয়ের পিছন দিক থেকে সোজা পশ্চিমমুখী কাঠের তৈরি ট্রেইল। এটি কিছু দূর গিয়েই শেষ হয়েছে। এখান থেকে হাতের ডানে জঙ্গল ধরে সামান্য হাঁটলেই টাইগার ডেন, আর বাঁয়ে সামান্য গেলে সমুদ্র। সূর্যাস্ত দেখার জন্য উপযুক্ত জায়গা এটি। কটকার জেটির উত্তরে খালের চরে আকাশ ছোঁয়া দীর্ঘ কেওড়ার বন। এ জায়গাটিতে সবসময়ই দেখা যায় দলে দলে চিত্রা হরিণ, বন্য শুকর, বানর ইত্যাদি।

কটকা বন কার্যালয়ের ঠিক ওপারে ছোট খাল চলে গেছে সোজা পূবে। কিছু দূর যাওয়ার পরে হাতের ডানে জেটি। ওপরে উঠলে ওয়াচ টাওয়ার। এ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সুন্দরবনের সৌন্দর্য। কটকা ওয়াচ টাওয়ারকে পিছনে রেখে দক্ষিণে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে গেলে জামতলা সমুদ্র সৈকত। জামতলা সৈকতটি নির্জন ও পরিচ্ছন্ন।

 

কী ভা বে  যা বে ন

সুন্দরবন ভ্রমণে যেতে অবশ্যই অভিজ্ঞ কোনো ভ্রমণ সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।  ঢাকা থেকে সরাসরি খুলনা যেতে পারেন সড়ক ও রেলপথে। ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে ঈগল পরিবহন, গ্রিন লাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ইয়োলো লাইনের এসি বাস যায় খুলনা। ভাড়া ১৩০০ টাকা। এছাড়া ঈগল, সোহাগ, হানিফ, সৌদিয়া, দ্রুতি ইত্যাদি পরিবহনের নন-এসি বাসও চলে এ পথে। ভাড়া জনপ্রতি ৫০০ টাকা। তবে ঈদের সময়ে এসব ভাড়ার তারতম্য হয়ে থাকে। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সপ্তাহের বুধবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬টা ২০ মিনিটে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ টায় আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস যায় খুলনা। ভাড়া ৩৯০-১৫৯৯ টাকা। এছাড়া ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, নভো এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারের বিমানে যশোর এসেও সেখান থেকে সহজে খুলনা আসা যায়। এ পথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২০০ টাকা।