দুই কোটি টাকার ওপরে স্থাবর সম্পদ রয়েছে এমন বিত্তবানদের ওপর বাজেটে বাড়তি হারে সারচার্জ (করের উপর কর বা মাশুল) আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে দুই কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদধারীকে তার প্রদেয় করের ওপর ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হয়। আর ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের জন্য দিতে হয় ১৫ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে প্রথম হারটি ঠিক রাখা হয়েছে। তবে ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর ১৫ শতাংশ, ২০ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের জন্য ২০ শতাংশ এবং ৩০ কোটি টাকার অধিক সম্পদের ওপর ৩০ হারে সারচার্জ দিতে হবে।
গত ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে সারচার্জ ব্যবস্থা চালু করে সরকার। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবারে তাদের বাজেট প্রস্তাবে বিদ্যমান সারচার্জ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে বর্তমানে দুই কোটি টাকার ওপরে সম্পদধারীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। বিগত ২০১২-১৩ অর্থবছরে এসব সম্পদধারীর কাছ থেকে ১৩১ কোটি টাকা সারচার্জ আদায় করা হয়। ২০১১-১২ অর্থ বছরে প্রথমবারে সারচার্জ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। আসছে অর্থবছরে এই সারচার্জের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ব্যক্তি শ্রেণির করের ক্ষেত্রেও ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি আয় করেন এমন করদাতাদের ওপর বিদ্যমান ২৫ শতাংশের স্থলে ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে এই প্রস্তাব করা হয়েছে।
