বাজেটকে গণমুখী বলেছে রাজনৈতিক দলগুলো

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৪, ২৩:১৪
ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার অংশীদার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও উন্নয়নমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এ বাজেট ইতিবাচক। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের পর বিবৃতি ও ইত্তেফাককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, এ বছরের বাজেট অত্যন্ত জনবান্ধব। জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট তৈরি করা হয়েছে। বাজেটে সব শ্রেণীর মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘোষিত বাজেটটি একটি অগ্রগামী বাজেট। সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পেয়েছে। উত্পাদনশীল বেশকিছু শিল্পকে বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, নতুন বাজেটটি মুক্তবাজার অর্থনীতির ভ্রান্ত ধারণা থেকে উত্তরণের বাজেট। গত পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতির যে দিক বদলেছে তার প্রমাণ মিলবে এ বাজেটে। একে দেশজ অর্থনীতি উদ্ধার ও উন্নয়নের বাজেট বলা যায়। আমাদের আগামীর উন্নতির ভিত্তি তৈরি করে দিবে এ বাজেট। এটি গ্রামবান্ধব এবং পরিবেশবান্ধব বাজেট। নতুন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। এ জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। জঙ্গিবাদকে সমূলে দমন এবং দলবাজি, গুম-হত্যার বিচারে কঠোর মনোভাব রক্ষা করা গেলে বাজেট বাস্তবায়নে সাফল্য আসবে। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সুশাসনও নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানান, প্রস্তাবিত বাজেট অত্যন্ত গণমুখী ও ব্যালেন্স। এবার প্রথম বারের মতো বাজেটে ইকো-ট্যাক্স চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণ করলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তিনি বলেন, বাজেটে কর না বাড়িয়ে করের আওতায় বাড়ানো হয়েছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক আখ্যায়িত করে বলেন, গণমুখী এ বাজেট দেশকে শিল্পায়িত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। স্বাধীন অর্থনীতি বিকাশের ক্ষেত্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে গণমুখী বাজেট দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, গণমুখী এ বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বাজেটকে কথার ফুলঝুরি ও মিথ্যা আশ্বাসে ভরা বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এক বিবৃতিতে দলের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, এটি ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার দর্শনভিত্তিক গতানুগতিক দলিল। বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেট প্রস্তাবনায় কথার ফুলঝুরি ও মিথ্যা আশ্বাসে ভরা, লোক দেখানো মনতুষ্টির নিষ্ফল প্রয়াস চালানো হলেও এ কথাটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, বাজেটের আসল লক্ষ্য হলো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশি-বিদেশি লুটপাটকারীদের পকেট ভারি করা। বাজেটে পরোক্ষ করের পরিমাণ ও মাত্রা বাড়িয়ে এবং বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন নেতৃদ্বয়। নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ এবারও অব্যাহত রাখার মাধ্যমে অর্থনীতিতে লুটপাটের ধারা আরও জোরদার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজেটকে অনির্ভরযোগ্য ও অবাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনায় পরিণত করা হয়েছে। এদিকে ‘গণমুখী’ ও ‘উন্নয়নমূলক’ বাজেট দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজধানীতে মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা। মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট, নূর হোসেন স্কয়ার হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ। শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ বের করে আনন্দ মিছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। টিএসসির মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তারানা হালিম, অরুন সরকার রানা, এটিএম শামসুজ্জামান, আলী জাকের, ফেরদৌসী মজুমদারসহ বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের ২৫১ জন্য সাংস্কৃতিক কর্মী। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ। গণমুখী, উন্নয়নমুখী ও যুব বান্ধব বাজেট দেয়ায় যুবলীগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করে।