আগামী ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫ বছরের জন্য ক্রমহ্রাসমান হারে কর অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১৫ হাজার করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এসব প্রস্তাব করেন। এদিকে অনেক দিন ধরে শেয়ার বাজারে লেনদেন সঙ্কট থাকলেও বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী শেয়ার বাজারকে স্থিতিশীল বলে দাবি করেছেন।
বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু পুঁজিবাজারকে উত্সাহিত করতে, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ‘ডিমিউচ্যুয়ালাইজড’ (স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা পৃথক) স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫ বছরের জন্য বছরভিত্তিক ক্রমহ্রাসমান হারে আয়কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ২০১০-১১ সালে পুঁজিবাজারে একটি বড় ধরনের ধস নামে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ঢেলে সাজানো হয়। নতুন কমিশন দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের আইন ও বিধিমালা সংস্কার করে সুশাসন নিশ্চিত করে। সর্বোপরি তাদের উদ্যোগে এবং উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সহযোগিতায় ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ২০১৩ সালের শুরু থেকে ডিএসই’র মূল্যসূচক এবং বাজার মূলধন মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।
