জামের রস রক্তবর্ধক

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ২০:০৯
মীনা সরকার, লেখক ও ছড়াকার কালোজাম বাংলা নাম : জাম ইরেজী নাম : Java plum, Black plum স্থানীয় নাম : কালো জাম , কলি জাম বৈজ্ঞানিক নাম : Eugenia jambolanum জাম গাছের বর্ণনা কালোজাম একটি দীর্ঘাকৃতির চিরসবুজ, ছায়ানিবিড়, ৫ মিটার থেকে ২০ মিটারের অধিক উচ্চতা বিশিষ্ট বৃক্ষ। গাছের বাকল পুরু এবং চকচকে। এ বৃক্ষের কান্ড সরল, অমসৃণ, উন্নত ও ধুসর বর্ণের এবং বৃক্ষ বহু শাখা বিশিষ্ট। শাখাগুলো উর্ধ্বমুখী। পাতা ডিম্বাকৃতির, সরল এবং পাতার রং গাঢ় উজ্জ্বল সবুজ ও চকচকে। পাতার বিন্যাস বিপ্রতীপ ও ঘন বিন্যস্ত। জামের শাখায় গ্রীষ্মকালে (মার্চ থেকে এপ্রিল) ফুল আসে। ফুলের আকৃতি খুব ছোট, শ্বেতবর্ণের এবং মৃদু সুগন্ধযুক্ত। জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত, যেমন- জাম্বুল, জাম্ভুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে বলা হয় নেরেদু পান্ডু, মালায়ালাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম এবং কানাডা ভাষায় নেরালে হান্নু। ফিলিপাইনে একে বলা হয় ডুহাট। বিস্তৃতি জাম ভারতবর্ষ থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে । বাংলাদেশে প্রধানত দুই জাতের জাম পাওয়া যায়। জাতগুলি হলো ক্ষুদি বা খুব ছোট জাত এবং মহিষে বা বেশ বড় আকৃতির এবং মিষ্টি। এটি বর্ষাকালে পাওয়া যায়। ফল কালো এবং খুব মসৃণ পাতলা আবরণ দিয়ে ঢাকা। ফলের বহিরাবরণের ঠিক নিচ থেকেই গাঢ় গোলাপী রঙের টক মিষ্টি শাস বিদ্যমান জামের পুষ্টিগুণ জাম একটি পুষ্টিকর ফল। জাম দেখতে ১ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার, ডিম্বাকৃতির। শুরুতে জাম সবুজ থাকে যা পরে গোলাপী হয় এবং পাকলে কালো বা কালচে বেগুনি হয়ে যায়। পুুষ্টি বিশ্লেষণে জামে পানি ৮৩.১৩ গ্রাম; আমিষ ০.৭২ গ্রাম, শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম; ফ্যাট ০.২৩ গ্রাম; আয়রন ০.১৯ মি.গ্রাম; ক্যালসিয়াম ১৯ মি.গ্রাম; ফসফরাস ১৭মি.গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মি.গ্রাম; পটাশিয়াম ৭৯ মিগ্রাম; সোডিয়াম ১৪ মি.গ্রাম; থায়ামিন (ভিটামিন বি ১) ০.০০৬ মি.গ্রাম; রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন বি ২) ০.১২ মি.গ্রাম ; নিয়াসিন (ভিটামিন বি ৩ ) ০.২৬০ মি.গ্রাম ; প্যানথোনিক এসিড (ভিটামিন বি ৫) ০.১৬০ মিগ্রাম : ভিটামিন বি ৬ ০.১৬০ মিগগ্রাম; ভিটামিন সি ১৪.৩ মিগ্রাম (Source: USDA Nutrient database )। এ ছাড়াও প্রতি ১০০ জাম থেকে ২৫০ কি জৌল খাদ্য শক্তি পাওয়া যায়। জামের পাতায় শতকরা হারে আমিষ ৯.১; স্নেহ ৪.৩, আঁঁশ ১৭.০, ছাই ৭; ক্যালসিয়াাম ১.৩ মিগ্রাম, ফসফরাস ০.১৯ গ্রাম পাওয়া যায়। জাম ব্যবহার টক মিষ্টি সুস্বাদ ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে জাম সকলের কাছে অতি পরিচিত ও সমাদৃত। জামের রস রক্তবর্ধক। পরিস্রুত জামের রস সিরকার উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হয়। জামের বাকল অরেচক, ব্রনকাইটিস ও এ্যজমা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন-এ জামের ব্যবহার হয়ে আসছে। জামের বীজ দিয়ে নানান রোগের আয়ুর্বেদীক চিকিত্সা করা হয়, যেমন বহুমুত্র, হজমের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁতের ব্যথা ইত্যাদি রোগে জামের বীজ, ছাল ও পাতা ব্যবহূত হয়। জাম থেকে মদ ও সিরকা তৈরি করা যায়। জামে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি আছে। জাম কাঠের ব্যবহার জাম কাঠ দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী এবং আদ্রতা সহিষ্ণু। এ বৃক্ষের কাঠে ভাল পলিস হয় না। তাই জাম কাঠ আসবাব তৈরি কাজে ব্যবহার করা হয় না। তবে গৃহ নির্মাণে এ কাঠের জুঁড়ি নেই। জামের বাল থেকে টেনিন ও কালো রঙ তৈরি করা হয়। জাম হিন্দু ও বৌদ্ব সমপ্রদায়ের পবিত্র উদ্ভিদ। কালো জামের উপকারিতা জাম ঠান্ডাজনিত জ্বর, কাশি ও টনসিল ফুলে যাওয়া প্রতিরোধ, জ্বর জ্বর ভাব দূর এবং দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করে এবং জামের ভিটামিন ‘এ’ দৃষ্টিশক্তিকে শক্তিশালী করে । জাম ক্যানসারের জীবাণু ধ্বংস, মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে, স্মৃতিশক্তি প্রখর, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর, কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। জামের ইলাজিক এসিড তিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস প্রতিরোধক । এ ছাড়াও জাম হূিপন্ডের অসুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, মলদ্বার ও মুখের ক্যানসারের বিরুদ্ধে। কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জামের কচিপাতা পেটের পীড়া নিরাময়ে সাহায্য করে। জামের বীজ থেকে প্রাপ্ত পাউডার বহুমুত্র রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও আমরা জাম থেকে রস, স্কোয়াশ ও অন্যান্য সংরক্ষিত খাদ্য তৈরি করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। যত্নশীল হউন এ গাছ রক্ষায়।