একটা সময় ছিল যখন টেলিভিশনে ঈদ অনুষ্ঠান মানেই শহুরে মানুষের হাসি-কান্নার গল্প। ছিল তারকাশিল্পীদের অংশগ্রহণে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে বিনোদিত করার চেষ্টা। সেসব ঈদ আয়োজনে ঠিক কোথায় সেই গ্রামের কৃষকটি? যার শ্রমে ঘামে উত্পাদিত ফসলে নিবারিত হয় মানুষের ক্ষুধা? তাঁকেও যুক্ত করতে হবে এই আনন্দধারায়। সেও এ সমাজের, এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই চিন্তা থেকে সারাজীবন কৃষকের সামনে মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা ধরে রাখা টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা শাইখ সিরাজ সিদ্ধান্ত নেন নিজেই বানাবেন কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের জন্য তাঁদের অংশগ্রহণেই ঈদ অনুষ্ঠান ফার্মারস গেইম শো ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’। বাকিটুকু ইতিহাস। ঈদ মানেই টেলিভিশনে কৃষকের ঈদ আনন্দ। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় কৃষকের ঈদ আনন্দ সারাদেশের মানুষের প্রাণের অনুষ্ঠানে রূপ নেয়। কারণ এটাতে লেগে আছে মাটির সুবাস, শেকড়ের ঘ্রাণ! যে অনুষ্ঠানে সর্বাধিক দর্শকের চোখ আটকে থাকে এর নির্মাণগুণে আর ভরপুর বিনোদনে। অনুষ্ঠানে কৃষকদের নিয়ে আনন্দ বিনোদনের পাশাপাশি থাকে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ভাবনার কথা। যার ফলে অনুষ্ঠানটি হাসি আনন্দের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়ন ভাবনায় সংশ্লিষ্ট মহলকেও সজাগ করে তোলে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে থাকে একটি থিম। যার ভিত্তিমূলে থাকে কৃষক সমাজ। প্রতিবারই কৃষকের ঈদ আনন্দের পরিবেশ ও পরিবেশনায় বেশ খানিকটা ভিন্নতা পাওয়া যায়। কিন্তু এবারের কৃষকের ঈদ আনন্দ একেবারেই অন্য পেক্ষাপটে নির্মিত। সারাবিশ্বেই কৃষক এক অনন্য পরিচয়। অথচ এই উপমহাদেশে কৃষক অবহেলিত। কেন? কৃষি এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকার একটি। এ দেশে কৃষক থাকবে মর্যাদার আসনে। যেখানে কৃষি ও কৃষককে কেন্দ্র করে রচিত হওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সেখানে কৃষকের অবস্থান কোথায়? দর্শক অনুষ্ঠানটি দেখবেন, আনন্দের পাশাপাশি হাসবেন এবং ভাববেন অতীত ও বর্তমানকে নিয়ে। কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানটি ঈদুল ফিতরের পরদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় চ্যানেল আইতে প্রচার হবে।
