বিষে সয়লাব বাজার

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ২১:১১
চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস। জ্যৈষ্ঠ মাসকে দেশীয় ফলের মৌসুম তথা মধু মাস বলা হয়। এ মাসে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, মণ্ডফল, তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, বেল, তালের শাঁসসহ বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। বেশি দাম পাওয়ার জন্য অধিকাংশ অপরিপক্ব ফল পাকাতে বেশি মাত্রায় ইথরিল ও কার্বাইড ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পচনের পর্যায়ে পৌঁছানো পাকা ফল গুদামঘরে বিছিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে ফরমালিন মিশ্রিত বিশেষ ধরনের কীটনাশক। ফরমালিনযুক্ত এসব ফল খেয়ে মানুষ কিডনি ও লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোমলমতি শিশুরা। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক, মিনিট্রাক, ট্রলার ও বড় বড় নৌকা যোগে ঢাকায় আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, বাঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের ফল আসে। আড়তগুলোতে ফরমালিন মিশিয়ে আগুনের তাপ দিয়ে, কেমিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিম উপায়ে আম, কাঁঠাল, লিচু বিভিন্ন ফল পাকানো হয়। অপরিপক্ব মৌসুমি ফল মেডিসিন প্রয়োগে রাতারাতি পেকে যায়। এতে ফলের সঙ্গে পেটে ঢুকছে মরণ বিষ। বেপারিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আধাপাকা অপরিণত ফল সরবরাহ করে থাকে। এসব ফলে রঙ না ধরলে বা না পাকলে ক্রেতারা কিনতে চান না। গাছ থেকে এসব ফল নামিয়ে বাগানে রাখা অবস্থায়ই এক দফা ইথাইনিল, ইথরিল ও কার্বাইড স্প্রে করা হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর আবারও মেশানো হয় একই রাসায়নিক। অতিমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার করায় ফলগুলোর ঘ্রাণ ও স্বাদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। পুষ্টির বদলে ফলগুলো পরিণত হয় বিষাক্ত খাদ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরমালিন উচ্চমাত্রার বিষাক্ত পদার্থ; এর কারণে দ্রুত কিডনি নষ্ট হওয়াসহ ক্যান্সার, লিভার ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের হার্টের রোগ দেখা দেয় ও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভে থাকা শিশুও বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু দেশি ফলই নয়, বিদেশি ফলেও ফরমালিন, কার্বাইড, ডিডিটি কোরোডেন, ডাই-এলড্রিন, হেপটাকোর জাতীয় মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক ও কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাধারণত ১৫ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত এগুলোর বিষক্রিয়া থাকে। আমার মতে, খুচরা বাজার তদারক করে ফলে ফরমালিন মেশানো রোধ সম্ভব হবে না। বরং আমদানিকারকরা ফল দেশে আনার পর যে জায়গা থেকে সরবরাহ করে সেখানেই জরুরিভিত্তিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কালেভদ্রে ভেজালবিরোধী অভিযানে ভেজাল মিশ্রণকারীরা গ্রেপ্তার হয়। কঠিন আইন না থাকায় আইনের ফাঁকে বের হয়ে তারা আবার একই কাজে নামে। অসত্ ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে অপরাধ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এদের দমন করার দায়িত্ব যাঁদের তাঁরা কী করছেন? বিষয়টি দেখভাল করার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠান যদি তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে তাহলে কেউই অপকর্ম করার সুযোগ পাওয়ার কথা নয়। তাই ভেজালবিরোধী যে আইন রয়েছে তা আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আশা করি, জনস্বাস্থ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় রোধে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। ঢাকা