কাওরান বাজারে নর্দান ইউনিভার্সিটিতে হামলা

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৩
রাজধানীর কাওরান বাজারে বেসরকারি নর্দান ইউনিভার্সিটির অফিস কক্ষ, ক্যান্টিন ও মিলনায়তনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়েছে। এ সময় অন্তত ১৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাওরান বাজারের ৯৩, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের ইডিবি (এস্টেট ডেভেলপার্স বাংলাদেশ) ট্রেড সেন্টার ভবনের ১৪ ও ১৬ তলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ইডিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল বারীসহ ওই প্রতিষ্ঠানের আরো ২৫ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় নর্দান ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামলায় ১৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত রিয়াজ, সৌরভ, পলাশ, আদনান, লাল মাহমুদ, শাকিব ও সেলিমসহ অন্যদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সৌরভ ও পলাশকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এছাড়া ফার্মগেটের আল রাজী হাসপাতালে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) এখতেদার আহমেদ সিদ্দিকী জানান, ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এস্টেট ডেভেলপার্স বাংলাদেশের (ইডিবি) কাছ থেকে ওই ভবনের কয়েকটি ফ্লোর তারা কিনে নেন। কিন্তু দু’বছর আগে ইডিবি জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনা ১৪ ও ১৬তম ফ্লোরটি এটিএন নিউজের কাছে আবার বিক্রি করে দেয়। এ নিয়ে ইডিবির সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেন-দরবারও হয়েছে। শুক্রবার ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকায় প্রায় ২শ’ লোক ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় বাধা দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বয়, নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়। হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ তলার ক্যান্টিন, ১৬ তলার মিলনায়তন ও নিচতলার অফিসকক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ বিষয়ে ইডিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল বারী জাহাঙ্গীর বলেন, দীর্ঘদিন ভবনের ১৪ ও ১৬ জবর-দখল করে রেখেছে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। অনেক চেষ্টা করেও তাদের সরানো যাচ্ছিল না। ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাই ইডিবি’র কর্মচারীদের ওপর হামলা করেছে বলে জানান তিনি। ইডিবির চারতলার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ২০-২৫ জন শ্রমিক সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মিস্ত্রি ও কাওরান বাজারের দিনমজুর। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইডিবি’র এমডি কাজের কথা বলে তাদের সেখানে ডাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন কর্মী ফজলুর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় সাত-আটজন লোক এসে নিচতলায় গেটের তালা খুলতে বলেন। কিন্তু তিনি তালা না খুলে ওপরে চলে যান। ঘণ্টাখানেক পর ৫০-৬০ জন লোক গ্রিল কাটার মেশিন দিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। একইভাবে তারা ১২, ১৪ ও ১৬ তলার তালা ভাঙেন। প্রতিবাদ করায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করেন। পরে ঘটনা জেনে আশপাশে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা ওই ভবনে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভবনের ৬টি ফ্লোর নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি কিনে নেয়। তাদের দাবি আরো দুইটি ফ্লোর তারা ইডিবি’র কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। ইডিবি দাবি করছে, ওই দুইটি ফ্লোর এটিএননিউজের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি ঐ দুইটি ফ্লোর দখল করে রাখে বলে ইডিবি’র দাবি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এই ফ্লোর দুইটি নিয়ে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি ও ইডিবি’র কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ইডিবির এমডিসহ ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।