পুঁজিবাজারবান্ধব নয় বাজেট :ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৪, ২৩:১০
আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের উপর নতুন কর আরোপে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা বৃদ্ধি ও স্টক এক্সচেঞ্জের কর অব্যাহতিকে ইতিবাচক বললেও বাজেটকে পুঁজিবাজারবান্ধব বলতে নারাজ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে এ মতপ্রকাশ করা হয়। ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিবাচক। তবে তা ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করলে বিনিয়োগকারীরা বেশি উত্সাহিত হবেন। ১০ লাখ টাকার বেশি অর্জিত মূলধনী আয়ের উপর (রিয়ালাইজ্ড ক্যাপিটাল গেইন) ৩ শতাংশ হারে এবং ২০ লাখ টাকার উপরে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা ঠিক হবে না। নতুনভাবে আরোপিত এ করের ফলে বড় বিনিয়োগকারীরা নিরুত্সাহিত হবেন। তাছাড়া ট্র্যাক হোল্ডাররা (ব্রোকারেজ হাউস) উেস কর কাটবে বলে যে কথা বলা হয়েছে তাও সম্ভব নয়। শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের মনোযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, সরকার শেয়ারবাজারের প্রয়োজনে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। আশাকরি, এখনও পুঁজিবাজারের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। নতুন এই কর আরোপ না করার ব্যাপারে সরকারের সম্মতি আশা করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ভালো রাখার মাধ্যমে সরকার বড় রাজস্ব আদায় করতে পারবে। যদি বাজার ভালো না থাকে তবে এ ধরনের নতুন কর আরোপ করেও মোট কর আদায় বাড়বে না। স্টক এক্সচেঞ্জের কর অবকাশ সুবিধা ক্রম হ্রাসমান হারে দেয়ার পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে দেয়ার দাবি জানান তিনি। ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের ট্র্যাক হোল্ডারদের সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর উেস কর ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ করা প্রয়োজন। সিএসই’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদও সিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একই দাবী করেন। এছাড়া লভ্যাংশের উপর উেস কর কর্তনের বিধান বাতিলের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের টিআইএন সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে গড়পড়তা সবার উপরই ১৫ শতাংশ হারে কর কাটা হতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া কোম্পানি ও ফার্মের শেয়ার বিক্রয়লব্ধ মূলধনী আয়ের উপর ১০ শতাংশ হারে কর ধাপে ধাপে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানান ড. মজিদ। তিনি বলেন, বিদ্যমান মন্দা পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে তিন বছর মেয়াদের অধিক সময় শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে মূলধনী মুনাফা করমুক্ত রাখা যেতে পারে। বাজেট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বপন কুমার বালা বলেন, বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব হয়েছে কিনা তা আগামীকাল (আজ রবিবার) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হলেই টের পাবেন। আর ড. আবদুল মজিদ বলেন, বাজেট পুরোপুরি পুঁজিবাজারবান্ধব নয়। দুটি সুবিধা দেয়া হলেও নতুন কর আরোপের ফলে পুঁজিবাজারকে উত্সাহিত করার পরিবর্তে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কর আরোপ বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ভিন্ন ধারণা দিবে। বাজারের স্বার্থে সরকারকে ইতিবাচক প্রয়াস নিতে হবে।