জবানবন্দিতে কারো নাম থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৪, ২৩:১১
নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ৭ খুনের ঘটনায় র্যাবের সাবেক দুই কর্মকর্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। এসব রিপোর্টে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়েও লেখা হচ্ছে। পত্র-পত্রিকার এসব রিপোর্টের ব্যাপারে র্যাব সদর দফতর একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাবেক দুই র্যাব কর্মকর্তার আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে র্যাব সদর দফতরের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্তকারী দল কর্তৃক তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণাদি সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “গত ৪ ও ৫ জুন দুই জন সাবেক র্যাব সদস্য কর্তৃক নারায়ণগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় দেয়া জবানবন্দির সূত্রধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এরকম স্বীকারোক্তিমূলক যে কোন জবানবন্দি আইন অনুযায়ী অতি গোপনীয়, যা অন্য কারো জানার কোন অবকাশ নেই; কিন্তু গত ৪ জুন র্যাবের একজন সাবেক কর্মকর্তার একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার দশ মিনিটের মধ্যেই জনৈক আইনজীবী মিডিয়াতে র্যাব সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে জানান যে, ‘উক্ত র্কমকর্তাও এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে’। আইনজীবী কর্তৃক স্বীকারোক্তিমূলক অতি গোপনীয় তথ্যাদি নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য যে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা সহজেই অনুমেয়।” বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘১৬৪ ধারায় র্যাব সদর দফতরের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্তকারী দল কর্তৃক তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণাদি সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; কিন্তু একটি স্বার্থন্বেষী মহল র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তথা র্যাবের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। যারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে র্যাবের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তথ্য-প্রমাণাদি ছাড়াই এ ধরনের অপপ্রচার অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য মানহানিকর। র্যাবের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীকে জড়িয়ে এধরনের উদ্দেশ্যমূলক, কাল্পনিক এবং ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনভিপ্রেত।’ নূর হোসেনের সহযোগী চার্চিল ৫ দিনের রিমান্ডে আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান ওরফে চার্চিলকে (৪৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, চার্চিলকে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঠানো হয়। শুনানিশেষে বিচারক ৫ দিনের রিমান্ডই মঞ্জুর করেছে। এর আগে শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সালামখার ডাঙ্গী এলাকা থেকে চার্চিলকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।