পথে পথে বখরা, জিম্মি যাত্রী ও পরিবহন মালিক

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৪, ২৩:১১
বেনাপোল-ঢাকা রুটে পুলিশের ‘সোর্সের’ কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। কাস্টমসের ক্লিয়ারেন্সের পরও ভারতীয় পণ্য বহনের অভিযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে টাকা। আর সময়ক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারছে না এসব পরিবহন। ফলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের শুনতে হচ্ছে নানা অবান্তর ও অশোভন কথাবার্তা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ অভিযোগ অতীতেও ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বখরাবাজদেরও পরিবর্তন ঘটে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তল্লাশির নামে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা (কলকাতা থেকে দেশে ফেরা)। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ নিয়ে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ জানানোর পরও কোন ধরনের প্রতিকার মেলেনি। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে যে কোন সময় পরিবহন মালিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবেন। সূত্র জানায়, ঢাকা-বেনাপোল রুটে সোহাগ, গ্রীন লাইন, হানিফ, এস আলম, ঈগল, বিআরটিসি, দ্রুতিসহ বিভিন্ন পরিবহনের শতাধিক গাড়ি চালাচল করে। এরমধ্যে পরিবহনের অনেক গাড়ি সরাসরি ঢাকা-কলকাতা রুটে যাত্রী পরিবহন করে থাকে। তারা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবার নিশ্চয়তা দেয়ার চেষ্টা করে থাকে বলেই যাত্রীদের কাছ থেকে সার্ভিস সেবা নিয়ে খুব একটা অভিযোগ শুনতে হয় না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় পুলিশ ‘সোর্সের’ উত্পাত বেড়েছে সীমাহীনভাবে। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই সোর্সের দেয়া তথ্য মতে হাইওয়ে পুলিশ যততত্র গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নামে সময়ক্ষেপণ করছে। তাছাড়া এসব পরিবহনে পথিমধ্যে কোন যাত্রী বা মালামালও তোলা হয় না। এ ব্যাপারে বার বার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানাবার পরও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ চন্দ ঘোষ বলেন, পথে ঘাটে গাড়ি আটক করে যাত্রী হয়রানি খুবই দুঃখজনক। এটা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে। তিনি বলেন, বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী গাড়িতে অধিকাংশ সময় অসুস্থ রোগী থাকেন। এনিয়ে কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ এসব যাত্রী কাস্টমস, ইমিগ্রেশনে মালামাল তল্লাশি করেই লাগেজ নিয়ে গাড়িতে ওঠেন। তিনি আরো বলেন, আর যদি সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকে তবে রাজধানীতে (যেখানে গাড়ি থামে) তল্লাশি করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কারো কোন অভিযোগ থাকবে না। বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত ভ্রমণ শেষে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে আসার পর তাদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি শেষে যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে থাকে শুনেছি। এ তল্লাশিতে কাস্টমসের কিছুই করার থাকে না। ঢাকা-কলকাতা রুটের একজন চালক বলেন, বেনাপোল থেকে গাড়ি ছাড়ার পর যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী (দৌলতদিয়া), মানিকগঞ্জ, ধামরাই, আশুলিয়া এলাকায় গাড়ি থামিয়ে হয়রানি করা হয়। তারা টার্গেটকৃত যাত্রীর কাছ থেকে টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা গাড়ি আটক করে রাখে। আর পথে পথে সময় অপচয়ের ফলে নির্ধারিত ফেরি ধরাও সম্ভব হয় না। এরপর রয়েছে ফেরি সমস্যা। বেনাপোল থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে ৭ ঘণ্টা। সেখানে লাগছে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত। আর দেরিতে গাড়ি পৌঁছানোর কারণে পরবর্তী অনেক ট্রিপের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে সমস্যা। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিবহন মালিকরা। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এসব অভিযোগের ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবেও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তা তদন্ত করে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, দেশের মোট হাইওয়ের ৪০ ভাগ তদারকি করে হাইওয়ে পুলিশ। বাকি ৬০ ভাগ তদারকি করে জেলা পুলিশ।