হয়তো প্রচণ্ড গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার হওয়া কোনো অতিথির দিকে বাড়িয়ে দিলেন এক গ¬াস শরবত। কিংবা তার তেষ্টা মেটানোর জন্য দেওয়া হলো ফলের রস বা অন্য কোনো পানীয়। এক্ষেত্রে আপনার তৈরি করা পানীয়টি অতিথি কতটা তৃপ্তি নিয়ে পান করবেন তার সঙ্গে গ¬াসটি কতটা ভারী বা হালকা তার কি কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে? এ ধরনের প্রশ্ন অধিকাংশ পাঠকের কাছেই হয়তো ভীষণ রকম বেমানান ঠেকবে। তবে খ্যাতনামা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এক্সপেরিমেন্ট সাইকোলজি’ বিভাগের অধ্যাপক চার্লস স্পেন্স কিন্তু ঠিকই তার গবেষণায় পানীয়র স্বাদের সাথে গ¬াসের ওজনের একটা যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। তার মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভারী গ¬াসে পরিবেশন করা পানীয়র স্বাদ হালকা গ¬াসের পানীয়র চাইতে তুলনামূলক অধিক স্বাদের বলে মনে হয়। স্পেন্সের ধারণা, অধিকাংশ মানুষের মনোজগতেই হালকা সামগ্রীকে বাজে মানের বা সস্তা বলে ভাববার একটা প্রবণতা রয়েছে। আর তাই পানীয় পরিবেশনের গ¬াসটি যদি হালকা হয় তাহলে দুনিয়ার অনেক ভালো পানীয় খেতে গিয়েও সেটিকে তুলনামূলক খারাপ মানের বলে মনে হতে পারে। সম্প্রতি চেলটেনহ্যাম সায়েন্স ফেস্টিভেলে দেওয়া এক বক্তৃতায় অধ্যাপক স্পেন্স বলেন, ‘অনেকে সামগ্রীর ক্ষেত্রেই আমরা ভারী কন্টেইনার পছন্দ করি কারণ এটি ক্রেতাদের কাছে ভালো মান বা মূল্যবান সামগ্রীর ধারণা বহন করে। আর তাই আপনি যদি চান যে আপনার পরিবেশিত পানীয়টুকু অতিথিরা তৃপ্তি নিয়ে পান করবেন তাহলে তাদেরকে প¬াস্টিকের কাপ বা হালকা কোনো গ¬াসে পানীয় না দিয়ে ভারী গ¬াসে দেওয়াই ভালো। বিশেষত এ কারণে মানুষের মধ্যে যে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে সেটি পানীয়’র স্বাদ তুলনামূলক ভালো বলে মনে করতে সহায়তা করে।’
