জীবনের ওঠানামা

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২১:১৩

প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে—মানুষের জীবন কেন এত উত্থান-পতনে ভরা? সদগুরু মনে করেন, উত্থান-পতন বলে কিছু হয় না। মানুষের জীবনে বিভিন্নভাবে ঘটে চলেছে নানা ঘটনা। ‘পরিস্থিতি’ বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। পৃথিবীতে প্রতিনিয়তই ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুধু এটাই ব্যাপার যে, প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে আপনার মেজাজ ওঠানামা করছে। কিন্তু আপনি যদি আপনার মনের মধ্যে অবিচলিত ভাব নিয়ে আসতে পারেন, পাহাড় এবং উপত্যকার সৌন্দর্যকেও আপনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আপনি যেভাবে আছেন, জীবনের উত্থান হলে আপনি কষ্ট পান, আর পতিত হলে তাতেও কষ্ট পান। আপনি যে এই প্রশ্নটি করছেন, মূলত তার কারণ হলো, আপনার জীবনের অভিজ্ঞতাই একটা যন্ত্রণা হয়ে উঠেছে। কিন্তু আপনার কষ্ট পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।

যা ঘটে যেতে পারে অথবা নাও ঘটতে পারে—সেটি আপনি কীভাবে অনুভব করছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার মানসিক যন্ত্রণা। যেটা ঘটছে না, সেটার জন্যও মানুষ কষ্ট পেতে পারে। তার অর্থ হলো, যার কোনো অস্তিত্বই নেই, সেটিকে নিয়েও মানুষ যন্ত্রণা পেতে পারে। সুতরাং স্পষ্টতই, যন্ত্রণা বিষয়টিই মূলত আপনার তৈরি। শরীরের ব্যথা বাইরে থেকেও আসতে পারে, কিন্তু মনের যন্ত্রণার অনুভূতি সর্বদাই নিজের তৈরি। কারণ, এটা শুধুই আপনার মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি এমনই যে, আপনি যেকোনো কিছু ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করে নিতে পারেন। যদি আপনার মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি সচেতনভাবে চলত, তাহলে আপনার চারপাশে কী ঘটছে তা ব্যতিরেকেই আপনি এটাকে মনোরম করে রাখতেন। যেহেতু এটি বাধ্যবাধকতার বশেই ঘটছে, যেখানেই থাকুন, আপনি যন্ত্রণা ভোগ করছেন। দয়া করে এটা দেখুন যে, পৃথিবীর যেকোনো কিছু নিয়েই মানুষ যন্ত্রণায় ভুগতে শিখেছে। যদি বিবাহিত না হন, আপনি কষ্ট পান কারণ, আপনি বিয়ে করতে চান; আপনি যদি বিবাহিত হন, তাহলেও কষ্ট পান; যদি সন্তান না থাকে আপনি কষ্ট পান; যদি আপনার সন্তান থাকে তাহলেও কষ্ট পান। যদি কোনো চাকরি না থাকে, আপনি কষ্ট পান; যদি একটি চাকরি থাকে, তাহলেও কষ্ট পান। যদি বেঁচে থাকেন, কষ্ট পান; যদি মৃত্যু আসে, তখনো কষ্ট পান। এমন কোন জিনিস আছে—যা থেকে আপনি কষ্ট পান না?

কী ঘটছে বা কী ঘটছে না—প্রশ্ন সেটা নয়। আপনি কীভাবে ঘটনাটিকে অনুভব করছেন, সেটাই বিচারের বিষয়। যদি আপনি সচেতন হন, তাহলে আপনার মনের মধ্যে যা ঘটে চলেছে, সেই মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটিকে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটাতে পারেন। যদি আপনি এটা বুঝতে পারেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই এটাকে সেভাবেই ঘটাবেন—যেভাবে আপনি চান। যেভাবে চান সেভাবেই যদি ঘটাতে পারেন—আপনি আগে নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে এটা যেন মনোরম হয়। সেক্ষেত্রে কোনো পরিস্থিতিকেই আপনি ইতিবাচক বা নেতিবাচক বলে দেখবেন না।

যেকোনো মানুষই যে অসুখী হন তার একমাত্র কারণ হলো—ঘটনাগুলো সেভাবে ঘটছে না, যেভাবে ঘটা উচিত বলে তারা মনে করেন। শেষ বিচারে, এটা হলো আপনার ভাবনার পদ্ধতি, তাই যেভাবে চান, আপনি সেভাবেই ভাবতে পারেন। আপনি যদি জানতে পারেন যে, কীভাবে আপনার মনোজগতের অবস্থাটি নিজের মতো করে তৈরি করে নিতে হয়—তাহলেই আপনি বাহ্যিক পরিস্থিতিকে নিজের সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে সামলে নিতে পারবেন। যা ঘটল—তা ঘটল, যা ঘটল না—তা ঘটল না। কিন্তু আপনি সেটা সামলে নিতে পারবেন আপনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে এবং যেকোনো মানুষের করণীয় হিসেবে সেটাই শেষ কথা। নিজের সঙ্গে কীভাবে আনন্দে বসবাস করতে হয়—বাহ্যিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে এটা যদি কোনো ব্যক্তি জানেন, তাহলে তিনি নিশ্চিতভাবেই আধ্যাত্মিক পথে আছেন। চূড়ান্ত মুক্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করা যায় না।

n সৌজন্যে : ঈশা ফাউন্ডেশন