নিজেকে নিজে হত্যা, যাকে আমরা আত্মহত্যা বলে জানি। বর্তমান প্রজন্মের নিকট আত্মহত্যা ব্যাপারটা যেনো একটা ডালভাতের মতো ব্যাপার! পান থেকে চুন খসলেই তাদের মাথায় আত্মহত্যা নামক শব্দটি ঘুরপাক খেতে শুরু করে।
ডাক্তার বা চিকিত্সকগণ আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে মানসিক অবসাদজনিত গুরুতর উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। ইতোমধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশে আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে এক ধরনের অপরাধরূপে ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক ধর্মেই আত্মহত্যাকে পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাপ তো বটেই! কারণ একজন মানুষের উপর শুধুমাত্র তার নিজের অধিকার থাকে না। পরিবারের, সমাজের এমনকি দেশেরও অধিকার থাকে তার উপর।
বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন কারণে! যেমন-পারিবারিক কোনো সমস্যা, বন্ধুত্বের মধ্যে দেয়াল চলে আসা, শিক্ষাগত বা ক্যারিয়ারগত হতাশা, প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদসহ ইত্যাদি কারণ।
আত্মহত্যার প্রবণতা কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা-বোঝাপড়াগুলো বৃদ্ধি করা। প্রত্যেকটা মানুষের উচিত সর্বপ্রথম তার পরিবারের মানুষগুলো সম্পর্কে ভাবা।
আমি বলবো, যারা এখনো আত্মহত্যার কথা ভাবছেন তারা দয়া করে একবার চোখ বন্ধ করে নিজেদের মায়ের চেহারাটা ভাবুন। একবার স্কুলে যাওয়ার সেই প্রথম দিনটার কথা ভাবুন, যেদিন অনেক স্বপ্ন নিয়ে আপনার মা-বাবা আপনাকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। দেখবেন অবশ্যই তখন একবার বাঁচার ইচ্ছা হবে। মা-বাবা আপনাদের বড় করার পেছনে যে আত্মত্যাগ করেছেন তার কিছুটা হলেও শোধ করে দেওয়াটা আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
অবশ্যই নিজেদের পরিবারের চেয়ে পারিপার্শ্বিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভুল ডিসিশন নেওয়াটা বোকামি। কারণ আপনার ভালো বা খারাপ সময়ে স্থায়ীভাবে সঙ্গে থাকবে আপনার পরিবারই, এটাই চিরবাস্তব। তাই অন্য সবকিছুকে পরিবারের জন্য স্যাক্রিফাইস করাই যায়। শুভকামনা রইলো সবার জন্য!
n লেখক :শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
