নাইমা রহমান। শেয়ারবাজারের একজন বিনিয়োগকারী। পরিবারের কাজের পাশাপাশি শেয়ার ব্যবসা করছেন ২০০২ সাল থেকে। দুই সন্তানের জননী এই নারী ৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রথমে বিনিয়োগে আসেন। এখন তার মূলধন প্রায় ২৫ লাখ টাকা। ২০১০ সালে বাজার ধসের সময় বড় অঙ্কের ক্ষতির শিকার হলেও এখন ধীরে ধীরে তা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি সময় দিতে হয় না বলে পরিবারের পক্ষ থেকেও তিনি যথেষ্ট সহায়তা পান। বান্ধবীর কাছ থেকে শেয়ারে বিনিয়োগের কথা শুনেই এখানে বিনিয়োগের উত্সাহ পেয়েছেন বলে জানান নাইমা রহমান।
নাইমা রহমানের মতো অনেক নারীই এখন শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান আগের তুলনায় প্রশংসনীয় হারে বাড়ছে। শেয়ারবাজার খুব জটিল একটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্র। এ খাতে কয়েক বছর আগেও নারীদের পদচারণা ও অগ্রগতি ছিল সীমিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নারীরা বিপুল আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছেন। শেয়ারবাজারে নারীদের এই এগিয়ে যাওয়া সত্যিই আশা জাগানিয়া সংবাদ। যেহেতু এ ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় দিতে হয় না এবং বাড়িতে বসেই লেনদেন করা যায় তাই নারীদের জন্য শেয়ারবাজার খুব সুবিধাজনক বলে বিবেচিত হয়।
সিডিবিএল-এর (সেন্ট্রাল ডেপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি থেকে দেড় মাসে (১৪ মার্চ পর্যন্ত) ৮০ হাজার ৭৮৫টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট খুলেছে বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে পুরুষ ৫৪ হাজার ৮৭৮ এবং নারী ২৫ হাজার ৮৪৪ জন। অর্থাত্ এই সময়ের বিও অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারীদের অবদান। এদিকে বর্তমানে মোট বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে ২৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৬টি। এর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারী ২১ লাখ ৬৫ হাজার ৭১২ জন এবং নারী ৭ লাখ ৬১ হাজার ৬৯৩। অর্থাত্ মোট শেয়ার বিনিয়োগকারীদের এক-চতুর্থাংশ নারী। ফলে খুব সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে যে বিও অ্যাকাউন্ট হচ্ছে তাতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বাড়ছে।
শেয়ারবাজারের বিনিয়োগে নারীদের অগ্রযাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে গেলে। এখন প্রায় প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউসেই লেনদেনের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। কি প্রাইমারি মার্কেট কি সেকেন্ডারি মার্কেট উভয় ক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মতিঝিলের সাধারণ বীমা ব্রোকারেজ হাউসে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেনকারী খাদিজা তাহিরা জয়ার সঙ্গে কথা হলো এসব বিষয়ে। তিনি বলেন, নারীদের জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ খুব সুবিধাজনক। এ ব্যবসায় সারাদিন সময় দিতে হয় না। তাছাড়া বাসায় বসেও লেনদেন করা যায়। ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেও পরিবারকে সময় দেয়া যায় পুরোপুরি। তিনি আরও বলেন, বাসায় বসেই ইন্টারনেটে ও পত্রিকায় খোঁজ-খবর রাখলে বাসায় বসেই ভালো মুনাফা অর্জন করা যায়। ফলে নারীদের জন্য এ ব্যবসা খুবই ইতিবাচক। তবে হালনাগাদ তথ্য জানতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতেও আসতে হয়। এতে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের পরামর্শও পাওয়া যায়।
প্রাইমারি মার্কেটের বিনিয়োগেই নারীরা বেশি এগিয়ে আসছেন। প্রাইমারি শেয়ারে বিনিয়োগকারী লিনা হক বলেন, প্রতি মাসেই গড়ে দুয়েকটি কোম্পানি আইপিওতে আসছে। একটু কষ্ট করে ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিয়ে লটারিতে শেয়ার পেয়ে গেলে একটা ভালো অঙ্কের মুনাফা থাকে। যেহেতু মাসে দুয়েকদিন সময় দিলেই কাজটি সম্পন্ন করা যায় তাই এতে পরিবারের কাজেও সমস্যা হয় না। টাকাও উপার্জন করা যায় খুব সহজে। তাই নারীদের জন্য শেয়ার ব্যবসায় খুব সহজ। তবে শেয়ার ব্যবসা যেহেতু একটা জটিল ব্যবসা তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হয়। পাশাপাশি অভিজ্ঞদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিতে হয়।
ছবি: আর চৌধুরী
