নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে তিনটি পৃথক বিস্ফোরণে চারজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। রবিবারের এসব বিস্ফোরণ মাওবাদীদের দলছুট একটি গ্রুপ ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।
নগরীর কেন্দ্রস্থলের ঘাটিকুলো আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির ভিতরে বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনাস্থলে এলাকাটির বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী গোবিন্দ ভান্ডারি বলেছেন, ‘বড় ধরনের গোলমালের শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি বিস্ফোরণের ধাক্কায় একটি বাড়ির দেয়ালে অনেকগুলো ফাটল ধরেছে।’ শহরতলীর সুকেধারা এলাকার একটি সেলুনের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে, এতে তিনজন নিহত হন। বিস্ফোরণস্থলে উপস্থিত রয়টার্সের এক ফটো সাংবাদিক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে সেলুনটির দরজা-জানালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং সেনাবাহিনী ওই এলাকাটি সিল করে দিয়েছে। তৃতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে কাঠমান্ডুর থানকোট এলাকায় একটি ইটভাটির কাছে, এখানে দুইজন আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোনো গোষ্ঠী এসব বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
পুলিশ কর্মকর্তা শ্যাম লাল গাওয়ালি বলেছেন, ‘ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়।’ বিস্ফোরণগুলো কী ধরনের ছিল তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের দলছুট একটি অংশ যারা তাদের সমর্থকদের গ্রেফতার করার জন্য সরকারের বিরোধিতা করছে, বিস্ফোরণগুলো তাদের কাজ হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম বিস্ফোরণস্থল থেকে ওই গোষ্ঠীটির একটি পুস্তিকা পাওয়া গেছে।’ ওই গোষ্ঠীর কর্মীরা এই বাড়িতে বসে বোমা তৈরি করতো এবং আহতদের মধ্যে একজন গোষ্ঠীটির কর্মী বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। নেপালে এক দশক ধরে গৃহযুদ্ধ চলার পর ২০০৬ সালে তা শেষ হয়। সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের প্রধান অংশটি যে দলে যোগ দিয়েছিল, তারাই এখন সরকার পরিচালনা করছে। ফেব্রুয়ারিতে সাবেক বিদ্রোহীদের দলছুট অংশটি কাঠমান্ডুতে একই ধরনের একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, তাতে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছিলেন।
