সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা পদক প্রদানের ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধিসহ সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ সংশোধনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারের পেশাজীবী ও কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়ও সম্পন্ন হয়েছে। ‘সরকারি কর্মচারী আইন- ২০১৩’-এর সংশোধিত খসড়া প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বিবেচনার জন্য এখন উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও গত বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান নানা সমস্যা এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, ঢাকার আজিমপুর ও মতিঝিল সরকারি কলোনীতে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া সেগুনবাগিচা ও মোহাম্মদপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দশতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি ও উত্সাহ দিতে ‘সিভিল সার্ভিস পদক’ দেয়ারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে একটি খসড়া নির্দেশিকা। জানা গেছে, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৃজনশীল কার্যক্রম উত্সাহিত করার মাধ্যমে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি ও সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘সিভিল সার্ভিস পদক নীতিমালা’র খসড়াটিও প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।
গাড়ি কিনতে অগ্রিম টাকা: এদিকে সিনিয়র উপ-সচিবদের গাড়ি কেনার জন্য অগ্রিম অর্থ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কর্মকর্তাদের কাজে গতিশীলতা আনতে এবং সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্বালানিসহ গাড়ি দেয়া, চালকের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের পরিবর্তে গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ২০ লাখ টাকা অগ্রিম দেয়া হচ্ছে। এসব গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসিক আরও ৩০ হাজার টাকা হারে বিশেষ ভাতা দেয়া হচ্ছে তাদের। এ পর্যন্ত সচিব, যুগ্ম সচিব পর্যায়ের ৫৬২ জন কর্মকর্তা এ সুবিধা পেয়েছেন। চলতি ২০১৩-’১৪ অর্থবছরের মধ্যেই আরও তিনশ জন কর্মকর্তাকে এ সুবিধা দেয়ার কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া গত বছরের ৯ জানুয়ারি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের কার্যক্রম চলমান। এরমধ্যে প্রথম ধাপে ২৩ হাজার বিদ্যালয় গত বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৭৪১টি বিদ্যালয় একই বছরের পহেলা জুলাই থেকে অধিগ্রহণ করা হয়ছে। প্রথম ধাপে অধিগ্রহণকৃত ২২ হাজার ৯২৬টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৯১ হাজার শিক্ষকের চাকরি ইতিমধ্যে সরকারিকরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয়ের অধিগ্রহণসহ শিক্ষকের জন্য পদ সৃষ্টির কার্যক্রমও চলছে।
