উত্তেজনায় কাঁপছেন লিওনেল মেসিরা

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৪, ২৩:১৫
সারাবছর উদয়াস্ত পড়ালেখা করে পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে কী বুকটা কেঁপে ওঠে না? দিনের পর দিন মহড়া দিয়ে, কণ্ঠটাকে প্রস্তুত করে মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে গায়কের গলাটা শুকিয়ে যায় না? হ্যাঁ, সেই পরীক্ষার হলে ঢোকা কিংবা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগের অনুভূতিটা এখন চেপে ধরেছে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের। বিশ্বসেরা ডিফেন্ডারের শক্ত প্রতিরোধ যাকে কাঁপাতে পারে না, সেই লিওনেল মেসিও স্বীকার করে নিচ্ছেন, একটু হলেও নার্ভাস লাগছে। এতোদিন যেমন-তেমন কেটেছে, ব্রাজিলে রওনা হওয়ার ঠিক আগ আগ সময়ে মেসিরা বুঝতে পারছেন এক চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তারা- বিশ্বকাপ পরীক্ষা! এই পরীক্ষাকে মেসি বলছেন, ‘চূড়ান্ত সত্য’। আগের দিন অল্প সময়ের জন্য মাঠে নেমেই নিজের জাদুতে ম্যাচ জিতিয়েছেন স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে, আরও একবার ম্যাচসেরা হয়েছেন; আর্জেন্টিনা পেয়েছে ২-০ গোলের জয়। একদিন আগে পর্যন্তও বলেছেন, সবাই ফুরফুরে মেজাজে আছেন। কিন্তু এই শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলে ফেলার পরই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ও চারবারের ফিফা বিশ্বসেরা খেলোয়াড় মেসি বলছেন, এইবার সবকিছু ঝেড়ে ফেলে চূড়ান্ত সত্যের মুখোমুখি হওয়ার উত্তেজনায় শিহরিত তারা। ম্যাচশেষে মেসি বলছিলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, সবাই উত্তেজিত। আমি নিজেই খুব শিহরিত। আমরা এখন ব্রাজিল রওনা দেয়ার রোমাঞ্চে রোমাঞ্চিত। তা না হয়ে উপায়ও নেই। কারণ, এতোদিনে সেই চরম সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আমরা।’ এই রোমাঞ্চটা নিজের শরীর-মন দিয়েই বুঝতে পারছেন আর্জেন্টিনার প্রবীণ কোচ আলেসান্দে া সাবেলাও। তিনি মাঠে নামবেন না। কিন্তু শিষ্যদের যে অধীর অপেক্ষা দেখছেন বিশ্বকাপের জন্য, তাতে বুঝতে পারছেন এই চূড়ান্ত সময়ে এসে তার ছাত্ররা সবাই উত্তেজিত-শিহরিত, ‘আমি নিজে কখনো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাইনি; তাই এই উত্তেজনার সৌভাগ্য আমার কখনোই হবে না। একবার শুধু (ড্যানিয়েল) প্যাসারেলার সহকারী হিসেবে বিশ্বকাপে গিয়েছিলাম। তবে এবার আমি ছেলেদের চোখে-মুখে তাকিয়ে ওদের উত্কণ্ঠা, উত্তেজনা বুঝতে পারছি। এরা জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আর তো বেশি সময় নেই। ফলে এখন একটু নার্ভাসও অনেকে হচ্ছে।’ এই উত্তেজনা-শিহরণ হয়তো কাব্য করার জন্য ভালো; কিন্তু আর্জেন্টিনার দিক থেকে দেখলে এটা বুমেরাংও হতে পারে। দলের খেলোয়াড়রা এই নার্ভাসনেসে ভুগলে বিপাকে পড়ে যেতে পারে তারা। তবে সাবেলা ও মেসি দু’জনই নিশ্চিত, এটা কেটে যাবে। সাবেলা যেমন বলছিলেন, ‘এটা একটু কঠিন। তবে আমি সবাইকে খুব রিল্যাক্স থাকতে বলেছি। কোনো টেনশন নিতে হবে না কারো। আমি বুঝি এটা কাটানো সহজ নয়, তবে কেটে যাবে।’ আবার অধিনায়ক মেসি বলছিলেন, এই উত্তেজনাকে সফল করতে হলেই একে পাশে রেখে একটার পর একটা জয় নিয়ে এগোতে হবে, ‘আমরা কেন রোমাঞ্চিত, সেটাই সবাই জানি। ফলে সেই রোমাঞ্চের ব্যাপারটা অর্জন করতে গেলে একটার পর একটা জয় নিয়েই এগোতে হবে আমাদের।’ এই এগোনের পর আর্জেন্টিনার প্রাপ্তিটা কী হবে? ২৮ বছরের খরাটা এবার কী ঘোচাতে পারবে মেসির দল? অবশেষে কী একটা বিশ্বকাপ নিয়ে ফিরতে পারবে? অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, লাতিন আমেরিকাতেই খেলা বলে ব্রাজিলের পরই এবার আর্জেন্টিনার সুযোগ বেশি। কিন্তু এসব অনুমানে ভাসতে রাজি নন সাবেলা। তিনি বললেন, চেষ্টার কমতি করবেন না তারা, দলও প্রস্তুত। বাকিটা সময়ের হাতে ছেড়ে দিলেন আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমি কোনো অনুমান করতে চাই না। বিশ্বকাপ জিততে গেলে, এমনকি প্রথম পর্ব পার হতে গেলেও অনেক কঠিন কঠিন ম্যাচ জিততে হবে আমাদের। আমি বলতে পারি, ছেলেরা জীবন দিয়ে চেষ্টা করবে। আমি বলতে পারি, আমরা সবাই প্রস্তুত। বাকিটা মাঠে দেখা যাবে।’