বিনিয়োগ বাড়াতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে জরুরি

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৪, ২৩:১৯
শুধু বাজেট প্রণোদনায় বিনিয়োগ বাড়বে না। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুত্, গ্যাস প্রাপ্তির নিশ্চয়তাসহ অন্যান্য সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন। আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আর বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো বিনিয়োগ বাড়বে না। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদরা এমন মন্তব্য করেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সংশয় রয়েছে। এক্ষেত্রে বিগত কয়েক বছরের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বেশি ধরা হয়েছে বলে মত দেন তারা। মির্জ্জা অজিজুল ইসলাম বাজেটকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত তিন বছরে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। এর পেছনে যুক্তি ছিল, সরকারি বিনিয়োগ বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগ উত্সাহিত হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এ বছরের বাজেটে গার্মেন্টস শিল্পসহ অন্যদের জন্য কিছু প্রণোদনা দেয়া হলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করাসহ অন্যান্য সহায়ক পরিবেশ দিতে হবে। তা করা সম্ভব না হলে প্রাক্কলিত ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমনিতেই ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বেশি ধরা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়া গেলে বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক ঋণ আরো বাড়বে। এটি মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখ্ত বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, জিডিপি’র আকার অনুযায়ী বাজেট উচ্চাভিলাষী নয়। অবশ্য বড় আকারের এডিপি নেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এডিপি’র সংস্কৃতি দাঁড়িয়েছে বড় আকারের নিতে হবে। ১০ মাস শেষে দেখা গেছে মাত্র ৪০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। আর বাকি ২ মাসে তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করে বলা হয়, ‘হ্যাঁ আমরা ৯০ শতাংশের বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করেছি।’ এর ফলে কেবল অর্থ অপচয় হয়। যা জিডিপিতে আঘাত করে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের ধারা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে না বলেও মনে করেন তিনি। এছাড়া বাজেটে জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির আঘাত ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি উদ্বেগের। সরকার এক্ষেত্রে ভর্তুকি কমিয়ে দিলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্য বহির্ভূত মূল্য বাড়বে। বিদ্যুতের মূল্যও বাড়তে পারে। অন্যদিকে কয়েকটি খাতে ভ্যাটের হার বাড়ানোয় ভোক্তা পর্যায়েও চাপ বাড়বে। অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করতে গিয়ে যাতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এই বাজেট পুঁজি বাজারবান্ধব নয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ২০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিলে তাদের ১০ শতাংশ কর রেয়াত প্রত্যাহার করা এবং ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকার বেশি মুনাফায় বাড়তি হারে কর আরোপের পদক্ষেপকে সময়োচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের কোম্পানিকে কর ছাড় দেয়ায় প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগকারীদের কোন লাভ হবে না। অন্যদিকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কর ছাড়ের পরিমাণ নগণ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উইমেন চেম্বারের (বিডব্লিওসিসিআই) সভাপতি সেলিমা আহমাদ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল ছাড়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ওই টাকা ব্যয় না হওয়ার জন্য কারা দায়ী তা খুঁজে বেরা করা দরকার। ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদলের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইফাদ গ্রুপের পরিচালক তাশফীন আহমেদ, ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।