মানবতার সেবায় মার্কিন সৈন্যরা

কাউনিয়ায় জরাজীর্ণ স্কুল ভবন আধুনিক হল

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৪, ২৩:২১
রাজধানী ঢাকা থেকে তিনশ মাইল দূরবর্তী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার একটি গ্রাম টেপামধুপুর। মাত্র দুই সপ্তাহেই যেন পাল্টে গেল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এই গ্রামের চিত্র। একদল বিদেশি কারিগর ও চিকিত্সক এসে রাতারাতি হতদরিদ্র গ্রামবাসীর হূদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিলেন। ৭৬ বছর বয়সী জরাজীর্ণ স্কুল ভবন পেল আধুনিক ছোঁয়া। সহায়-সম্বলহীন গ্রামবাসী পেল নিত্যনতুন সব স্বাস্থ্যসেবা। একজন গ্রামবাসী এটাকে বললেন, যেন বিপ্লব হয়ে গেল টেপামধুপুর গ্রামে। এমন বিপ্লব আমরা সবসময়ই চাই। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সদস্যরা ‘প্যাসিফিক এঞ্জেল ১৪-১’ কর্মসূচির আওতায় দুই সপ্তাহে এই অসাধ্য সাধন করেন। ৬০ জন মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য, চিকিত্সক ও চিকিত্সা কর্মী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, আনসার ও ক্যাডেট কোরের সহায়তায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে টেপামধুপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে পুরোপুরি সংস্কার ও আধুনিক রূপ প্রদান করে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলটির আধুনিক ভবন নির্মাণ করে প্যাসিফিক এঞ্জেলের সদস্যরা। সুপরিসর শ্রেণীকক্ষ, মিলনায়তন, শিক্ষক কক্ষসহ পুরো ভবনের যেন নতুন রূপ দেখা গেল। এমনকি স্কুল প্রাঙ্গণের শহীদ মিনারটিও সুদৃশ্য রূপ পায়। এছাড়া মার্কিন চিকিত্সা কর্মীরা স্থানীয় চিকিত্সকদের সহায়তায় গ্রামবাসীকে দেয় নানান ধরনের চিকিত্সা সেবা। সাধারণ স্বাস্থ্য, দাঁত, চক্ষু, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং সাধারণ মেডিসিনের সব ব্যবস্থাপত্র ও প্রাথমিক ওষুধ দেয়া হয়। প্রতিদিন পাঁচশ গ্রামবাসীকে এমন চিকিত্সা দেবার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা নেয়। মার্কিন চিকিত্সকদের কাছে পেয়ে গ্রামবাসী যেন উল্লাসে ফেটে পড়ে। প্যাসিফিক এঞ্জেলের সদস্যরা কারিগরি প্রশিক্ষণও দেয় কাউনিয়ার অনেক পুরুষকে। প্লাম্বিং, কারিগরি ও বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন গ্রামবাসী। প্যাসিফিক এঞ্জেল এ বছর এই প্রথম কর্মসূচি সফলভাবে পালন করল। রংপুর ও সৈয়দপুরে পাঁচটি স্কুল ভবন পুরোপুরি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। সব মিলিয়ে পুরো এলাকার শিশু, নারী, আবাল বৃদ্ধ বনিতার মুখে হাসি ফোটে। গতকাল রবিবার প্রথম কর্মসূচির সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখেন মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ড্যানিলুইস। আরো উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিমান বাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ডের মেজর জেনারেল পতিঞ্জার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরিচালক এয়ার কমোডর ফজলুল হক, সেনাবাহিনীর রংপুর ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আহমেদ জাকারিয়া, উইং কমান্ডার আবু রায়হান প্রমুখ। মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ড্যানিলুইস তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় এটি। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার দ্বারা জনগণ কিভাবে উপকৃত হয় আজকের উদ্যোগ তারই প্রমাণ। দুর্যোগের সময় ও পরে মানবিক সহায়তা আরো বাড়াতে চাই আমরা। ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে। জেনারেল পতিঞ্জার বলেন, প্যাসিফিক এয়ারফোর্স বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে। এর ফলে অংশীদারিত্ব আরো গভীর হবে। আমরা প্রযোজন দেখে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো। এয়ার কমোডর ফজলুল হক বলেন, মহাপ্রলয়ংকরী সাইক্লোন সিডর এর সময় মার্কিন সেনারা সি এঞ্জেল নিয়ে আসেন বাংলাদেশে। তখন থেকেই সহযোগিতা চলে আসছে। ২০১০ সালে যশোরের মনিরামপুরে এমন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় অভূত সাড়া পাওয়া যায়। দু’দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ফলেই আমরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছি।