দিন দিন প্রযুক্তি পণ্যের আকার আরও বেশি হালকা-পাতলা হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ল্যাপটপের মতো ডিভাইসকে আরও বেশি সহজে বহনযোগ্য করে তুলতে প্রসেসর, চিপ, মাদারবোর্ড—সবকিছুতেই যুক্ত হয়ে চলেছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। এবারে ল্যাপটপ বা নোটবুকের আকার আরও খানিকটা কমিয়ে আনতে তাইওয়ানের ড্যাফ্রন উদ্ভাবন করেছে নতুন ধরনের কিবোর্ড। ড্যাফ্রন মূলত ল্যাপটপ বা নোটবুকের জন্য কিবোর্ড তৈরি করে থাকে। কিবোর্ড নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাও তাই দীর্ঘদিনের। তাদের সর্বশেষ গবেষণায় নতুন ধরনের যে কিবোর্ড তারা উদ্ভাবন করেছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যাগলেভ কিবোর্ড’। প্রচলিত ল্যাপটপ বা নোটবুক কিবোর্ডের তুলনায় এগুলো পুরুত্বের দিক থেকে যেমন কম, তেমনি এগুলোর আয়ুষ্কালও বেশি। মূলত চৌম্বক ধর্ম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই কিবোর্ডগুলো। জাপানের বুলেট ট্রেন চালানোর জন্য যেভাবে চৌম্বক ধর্ম ব্যবহার করা হয়, এই ম্যাগলেভ কিবোর্ডেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত কিবোর্ডগুলোতে ‘কি’গুলোর ওপর রাবারের ক্যাপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু ম্যাগলেভ কিবোর্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে চুম্বকের আস্তরণ। আর এই চুম্বকই ‘কি’গুলোকে ওপরের দিকে তুলে রাখে। প্রচলিত কিবোর্ড ব্যবহারের মতোই সমান আরাম পাওয়া যাবে এই কিবোর্ডেও। কিন্তু রাবার ক্যাপের বদলে চুম্বকের আস্তরণ ব্যবহার করায় এর পুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। এ ছাড়া এই কিবোর্ডের ‘কি’গুলোর ওপর যে চাপ পড়ে, তা বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এর চাপসহনক্ষমতাও কমানো-বাড়ানো যাবে। আবার প্রচলিত কিবোর্ডের স্থায়িত্ব ১০ মিলিয়ন স্ট্রোক হলেও ম্যাগলেভ কিবোর্ডের স্থায়িত্ব ১৫ মিলিয়ন স্ট্রোক। অর্থাত্ ম্যাগলেভ কিবোর্ডের স্থায়িত্ব হবে প্রচলিত কিবোর্ডের দেড়গুণ। চলতি বছরের শেষের দিকে হাই-এন্ড ল্যাপটপগুলোতে দেখা মিলবে এই কিবোর্ডের—এমনটিই জানিয়েছে ড্যাফ্রন।
